
#কলকাতা: এবার আর ১লা বৈশাখে নয়, পালাবদলে পরিবর্তন হল পশ্চিমবঙ্গ দিবসের।
রাজ্যের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রতিষ্ঠার পেছনের ঐতিহাসিক ঘটনাবলিকে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ (Paschimbanga Divas) পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। গত ৩ জুন অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির পেছনে থাকা আইনসভাগত প্রক্রিয়া, বাংলার ইতিহাস এবং দেশভাগের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই উদযাপনের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উত্তরাধিকারের প্রতি আগ্রহ, দায়িত্ববোধ, ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও ঐক্যের চেতনা জাগিয়ে সামাজিক সংহতি আরও সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যও রয়েছে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি জেলা সদর এবং সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করা হবে। জানা গেছে, প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে থাকবে, পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক উৎসব, প্রদর্শনী ও সেমিনার, গ্রন্থাগার, জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জন সংযোগমূলক কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানগুলির সুষ্ঠু পরিকল্পনা, সমন্বয় ও বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি জেলায় ‘জেলা পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। জেলা শাসক হবেন এই কমিটির সভাপতি। এছাড়াও পুলিশ সুপার বা পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত জেলা শাসক, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিক, পুরসভার প্রতিনিধিসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তারা সদস্য হিসেবে থাকবেন। জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক থাকবেন সদস্য-সচিবের দায়িত্বে। জেলার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং বিধায়কদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও পালন হবে এই দিনটি। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সরকারি, সরকার পোষিত ও সরকার সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক, আইটিআই এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সমাবেশের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে যে কর্মসূচিগুলি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বিশেষ বক্তৃতা, স্কুল ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবন্ধ, বিতর্ক ও কুইজ প্রতিযোগিতা, বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় শিক্ষামূলক প্রকাশনা, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বার্ষিক স্মারক বক্তৃতার সূচনা।

রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। ফলে আগামী ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক নানা কর্মসূচির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।






