
#মালদা: গৌড় বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের উদ্যোগে এবং ‘দিনাজপুর গমীরা মুখা অ্যাকাডেমি’র ‘মাঙ্গলিকা’ মুখা দলের তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার দিনভর অনুষ্ঠিত হল এক দিবসীয় দিনাজপুরের গমীরা মুখোশ সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত এই কর্মশালায় শিক্ষক, গবেষক, ছাত্রছাত্রী এবং লোকসংস্কৃতি অনুরাগীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন লোকঐতিহ্য গমীরা নৃত্য ও মুখোশ শিল্পের ইতিহাস, সামাজিক তাৎপর্য এবং শিল্পরীতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করে তোলা। অনুষ্ঠানের সূচনায় গমীরা সংস্কৃতির ঐতিহাসিক পটভূমি, লোকবিশ্বাস এবং গ্রামীণ সমাজজীবনে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট গবেষক ও অধ্যাপকরা।

মাঙ্গলিকার কর্ণধার ড. অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, এদিন দিনাজপুর গমীরা মুখা অ্যাকাডেমির শিল্পীরা কর্মশালায় গমীরা মুখোশ তৈরির বিভিন্ন ধাপ হাতে-কলমে প্রদর্শন করেন। কাঠ নির্বাচন, খোদাই, রং প্রয়োগ এবং মুখোশের নান্দনিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা শিল্পীদের কাছ থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান।

এদিন ‘মাঙ্গলিকা’ মুখা দলের শিল্পীরা গমীরা নৃত্যের বিভিন্ন পর্ব ও চরিত্রের উপস্থাপনা করেন। ঢাক, কাঁসি ও অন্যান্য লোকবাদ্যের তালে পরিবেশিত এই নৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। শিল্পীরা জানান, গমীরা শুধুমাত্র একটি লোকনৃত্য নয়, বরং উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবনযাপন, বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ ও গবেষণার স্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা হবে। বক্তারা বলেন, আধুনিকতার চাপে হারিয়ে যেতে বসা লোকঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির যৌথ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দিনভর নানা আলোচনা, প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কর্মশালার সফল সমাপ্তি ঘটে। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আদিত্য কুমার লালা, অধ্যাপিকা সুনীমা ঘোষ সহ বিভাগের সকল অধ্যাপকেরা।






