
#রায়গঞ্জঃ পঞ্জিকা মতে চলতি বছর জামাইষষ্ঠী পড়েছে আগামী ২০ জুন। বাঙালির অন্যতম জনপ্রিয় এই উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই মাছের বাজারে শুরু হয়েছে ইলিশের চাহিদা। তবে এবার জামাইষষ্ঠীর পাতে বাংলাদেশের টাটকা ইলিশ উঠবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বাজারে এখন থেকেই পলিথিনে মোড়া কোল্ড স্টোরেজের বরফ-ঠান্ডা ইলিশের দেখা মিলছে। মৎস্য ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, মরশুমের টাটকা ইলিশ এখনও বাজারে আসেনি। ফলে জামাইষষ্ঠীর সময়েও মূল ভরসা হতে পারে স্টোরেজের ইলিশই।

দেবীনগর বাজারের মাছ বিক্রেতা রামকৃষ্ণ দাস বলেন, “বাঙালিদের কয়েকটি উৎসবের দিকে আমাদের বিশেষ নজর থাকে। তার মধ্যে জামাইষষ্ঠী অন্যতম। এই সময়ে ইলিশের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যায়। মরশুমের টাটকা ইলিশ বাজারে চলে এলে ভালো দাম পাওয়া যায়। কিন্তু এ বছর জামাইষষ্ঠীতে টাটকা ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ইতিমধ্যেই স্টোরেজের ইলিশ বাজারে চলে এসেছে।”

কোলাঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী নব কুমার হাতি জানান, বর্তমানে বাজারে যে স্টোরেজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে তার বেশিরভাগই মায়ানমার থেকে আমদানি করা। বোম্বে থেকেও মাছ আসছে। তিনি বলেন, “জামাইষষ্ঠীতে সাধারণত এই স্টোরেজের ইলিশই বেশি বিক্রি হয়। ভারত ও বাংলাদেশের ইলিশের তুলনায় এর স্বাদ কিছুটা কম। তবে এই মাছ দিয়েই অধিকাংশ বাঙালির জামাইষষ্ঠীর আয়োজন সম্পূর্ণ হয়।”

অন্যদিকে, উৎসব যত এগিয়ে আসছে ততই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে ইলিশের দাম। খুচরো বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ শীল জানান, বর্তমানে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকায়। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ১,০০০ টাকা। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের মাছের দাম ১,২০০ টাকা এবং ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কিলোগ্রাম ওজনের ইলিশের দাম পৌঁছেছে ১,৫০০ টাকায়। তাঁর আশঙ্কা, জামাইষষ্ঠীর আগে চাহিদা বাড়লে দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

ফলে বাঙালির প্রিয় জামাইষষ্ঠীর আগে ইলিশ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। টাটকা বাংলাদেশের ইলিশ বাজারে পৌঁছবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, আপাতত স্টোরেজের ইলিশের উপরই ভরসা রাখতে হতে পারে আম বাঙালিকে।






