
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ ভোটের মুখে বদলে যাচ্ছে প্রচারের ধরন। “জিতবে আবার বাংলা” বা “পাল্টানো দরকার”—এই ধরনের স্লোগান যেমন মাইকে শোনা যাচ্ছে, তেমনই এখন প্রায় প্রতিটি মানুষের মোবাইল ফোনেও পৌঁছে যাচ্ছে রাজনৈতিক বার্তা। কাকে ভোট দিতে চান থেকে শুরু করে, জিতে ক্ষমতায় এলে কী কী পরিষেবা দেওয়া হবে—তার বিস্তারিত বিবরণ শোনানো হচ্ছে ফোন কলের মাধ্যমে।

জানা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন আধুনিক প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে ভোটারদের কাছে পৌঁছতে মরিয়া। স্বয়ংক্রিয় ভয়েস কল, রেকর্ডেড বার্তা এবং কখনও কখনও সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমেও চলছে প্রচার। এই নতুন কৌশলে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির মতো বড় দলগুলি।

এই ফোন প্রচারে একদিকে যেমন নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হচ্ছে, তেমনই প্রতিপক্ষের দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের উদ্দেশ্যে। কোথাও বলা হচ্ছে উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান, কোথাও আবার তুলে ধরা হচ্ছে বিরোধীদের ব্যর্থতার অভিযোগ। ফলে ভোটারদের মনোভাব বোঝার পাশাপাশি তাঁদের প্রভাবিত করার চেষ্টাও চলছে সমানতালে।

রায়গঞ্জের বাসিন্দা পুলক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “প্রতিদিনই একাধিক ফোন আসছে। কখনও রেকর্ডেড গলা, কখনও আবার কেউ সরাসরি কথা বলছেন। কারও বক্তব্য শুনে ভালো লাগে, আবার অনেক সময় বিরক্তিও লাগে।” আর এক বাসিন্দা বিপুল সরকারের কথায়, “এইভাবে বিরক্তিকর প্রচার আগে দেখিনি। ফোন ধরলেই ভোটের কথা—কখনও সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে বলা হচ্ছে, আবার কখনও প্রশ্ন করা হচ্ছে কাকে ভোট দেব।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল যুগে ভোট প্রচারের এই ধরণ ক্রমশ বাড়বে। এতে যেমন দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছনো যায়, তেমনই ভোটারদের প্রতিক্রিয়াও সরাসরি জানা সম্ভব হয়। তবে একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও অযাচিত ফোনকলের বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনে প্রচারের ময়দানে নতুন সংযোজন ‘ফোন ক্যাম্পেইন’—যা ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।






