
#কোলকাতা: নতুন সেমিষ্টার পদ্ধতিতে এবার প্রথম উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে উঠে আসছে এক উদ্বেগজনক ও আতঙ্কজনক চিত্র। বহু পরীক্ষকই জানাচ্ছেন, খাতা খুলতেই চোখে পড়ছে কার্যত শূন্যতা—এমনকি ন্যূনতম নম্বর পাওয়ার মতো উত্তরও লিখতে পারছে না বেশিরভাগ পরীক্ষার্থী। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, ‘ফ্রি’ নম্বর দেওয়ার পরও বহু ছাত্রছাত্রী পাস করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

পরীক্ষা পর্ষদের নির্ধারিত পূর্ণমান যেখানে মাত্র ৩৫ এবং পাস নম্বর ১২, সেখানে এবারের বিশেষ পরিস্থিতিতে অঙ্কে সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্ন আসায় সকল পরীক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে কার্যত পাস করতে প্রয়োজন মাত্র ২ নম্বর। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বহু পরীক্ষার্থী সেই ন্যূনতম নম্বরটুকুও অর্জন করতে পারছে না।

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রধান পরীক্ষক জানান, “পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে পরীক্ষকদের নির্দেশ দিতে হয়েছে—যারা ৯ বা সাড়ে ৯ নম্বর পাচ্ছে, তাদের ১০ করে দিতে, যাতে প্রোজেক্ট নম্বর মিলিয়ে তারা অন্তত পাস করতে পারে।”

এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদ অমিত সরকার। তাঁর কথায়, “সরকারি ট্যাব প্রকল্পে দেওয়া ১০,০০০ টাকার সুবিধা কি পড়াশোনার বদলে মোবাইল নির্ভরতার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে? ছাত্রছাত্রীদের সময় কি এখন বইয়ের পাতার বদলে সোশ্যাল মিডিয়াতেই বেশি কাটছে?”

শিক্ষামহলের একাংশ আবার নতুন সেমিস্টার পদ্ধতিকেও দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, মাত্র ৩-৪ মাসের মধ্যে বিপুল সিলেবাস শেষ করা এবং তা আয়ত্ত করা অনেক ছাত্রছাত্রীর পক্ষেই কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে পরীক্ষার খাতায় প্রতিফলিত হচ্ছে সেই প্রস্তুতির অভাব।

এই পরিস্থিতি রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। শিক্ষাবিদদের একাংশের আশঙ্কা, যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী দিনে শিক্ষার মান আরও নিম্নমুখী হতে পারে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই করুণ দশার প্রকৃত কারণ কী? প্রযুক্তির অতিনির্ভরতা, নাকি শিক্ষানীতির কাঠামোগত দুর্বলতা? নাকি উভয়েরই মিশ্র প্রভাব? এই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোবে, সেটাই এখন দেখার।




