
#ডালখোলাঃ ডালখোলার পশু হাসপাতাল চত্বরে, নির্বিচারে গাছ কাটার অভিযোগ তুলে বনদপ্তরের দ্বারস্থ হল পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের উত্তর দিনাজপুর জেলা কমিটি। ডালখোলা বাজার এলাকায় অবস্থিত ওই প্রাণী হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তথাকথিত ‘মিউনিসিপাল হাসপাতাল’ নির্মাণের অজুহাতে পরিকল্পিতভাবে বহু প্রাপ্তবয়স্ক গাছ কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের উত্তর দিনাজপুর জেলা কমিটির জেলা সভাপতি অনিরূদ্ধ সিনহার অভিযোগ, এদিন সকালে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান যে কোনো অনুমতি ছাড়াই ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, যার মধ্যে গামার ও আম গাছও রয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আরও ১৪টি পূর্ণবয়স্ক গাছ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি আম, ১টি পিপুল, ৪টি কদম, ২টি তাল, ২টি কাঁঠাল এবং ১টি গামার গাছ। বিজ্ঞান মঞ্চের দাবি, এই গাছগুলো স্থানীয় পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সবুজ পরিসর বা “গ্রিন লাং” হিসেবে কাজ করে। তাদের মতে, এই গাছগুলো বায়ুদূষণ কমাতে সহায়তা করার পাশাপাশি বহু পাখি ও স্থানীয় প্রাণীকুলের আবাসস্থল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নির্বিচারে গাছ কেটে ফেললে পরিবেশের উপর গুরুতর প্রভাব পড়বে এবং ওই প্রাণীকুল স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞান মঞ্চ রায়গঞ্জ বন আধিকারিকের কাছে জানতে চেয়েছে, ট্রি প্রিজারভেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী গাছ কাটার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না এবং এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে কোনো পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (Environmental Impact Assessment) করা হয়েছে কি না। সংগঠনের অভিযোগ, নির্মাণ পরিকল্পনায় বিদ্যমান সবুজায়ন সংরক্ষণ করা বা গাছগুলিকে অন্যত্র প্রতিস্থাপনের কোনো উদ্যোগের কথাও সামনে আসেনি। পাশাপাশি এখনও ওই স্থানের জন্য কোনো চূড়ান্ত ভবন পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসেনি বলেও দাবি তাদের।

এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে বনদপ্তরের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির প্রস্তাবিত সাইট প্ল্যান ও প্রয়োজনীয় এনওসি (NOC) সহ একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন না হওয়া পর্যন্ত ওই স্থানে আরও গাছ কাটার উপর অবিলম্বে স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) জারি করা হোক। যদিও ছুটিতে থাকায় বন আধিকারিক ভূপেন বিশ্বকর্মার বক্তব্য পাওয়া যায় নি। ঘটনাকে ঘিরে ডালখোলা এলাকায় পরিবেশপ্রেমী মহলে ইতিমধ্যেই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।






