Explore

Search

June 23, 2026 3:57 am

IAS Coaching

যুবভারতীতে ম্যাকলারেন ম্যাজিক ! পাঁচ গোলে ওড়িশাকে উড়িয়ে লীগ শীর্ষে মেরিনার্স

#আনন্দ ব্যানার্জী, কলকাতা: জেমি ম্যাকলারেনের দুর্দান্ত চার গোলের নৈপুণ্যে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ইন্ডিয়ান সুপার লিগ ২০২৫-২৬ মরশুমে ওড়িশা এফসিকে ৫-১ গোলে পরাজিত করে দাপুটে জয় তুলে নিল। শুক্রবার কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এই বড় জয় পায় মেরিনার্সরা। টানা চতুর্থ জয়ের ফলে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান ধরে রাখল মোহনবাগান, অন্যদিকে ওড়িশা এফসি দুই পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে রয়ে গেল। ম্যাচে চার গোল করে জেমি ম্যাকলারেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।

মোহনবাগানের প্রধান কোচ সার্জিও লোবেরা প্রথম একাদশে চারটি পরিবর্তন করেন। দলে ফেরেন অধিনায়ক শুভাশিস বসু ও মেহতাব সিংহ রক্ষণভাগে, মাঝমাঠে লিস্টন কোলাসো এবং আক্রমণে অস্ট্রেলিয়ান দিমিত্রি পেত্রাতোস। অন্যদিকে ওড়িশা এফসির কোচ টি.জি. পুরুষোত্তমন রক্ষণভাগে একটি পরিবর্তন করে সেভিয়র গামার পরিবর্তে সৌরভ ভানওয়ালাকে দলে নেন।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি করেছিল ওড়িশা। লালথাথাঙ্গার কর্নার থেকে সেন্টার-ব্যাক রোহিত কুমার হেড নিলেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর পরপরই পাল্টা আক্রমণে লিস্টন কোলাসোর দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য বার ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ১১ মিনিটে অভিষেক সিংয়ের দূরপাল্লার শট পরীক্ষা নেয় ওড়িশার গোলরক্ষক অমরিন্দর সিংয়ের।

১৪ মিনিটে সুন্দর দলগত মুভ থেকে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। পেত্রাতোসের চমৎকার ব্যাকহিল পাস পেয়ে বাম দিক দিয়ে ওঠেন শুভাশিস বসু এবং নিখুঁত ক্রস বাড়ান বক্সে। সেখানে একেবারে ফাঁকা অবস্থায় হেড করে বল জালে জড়ান জেমি ম্যাকলারেন, ১-০ এগিয়ে যায় মেরিনার্স।

১৯ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও অমরিন্দর সহজেই সামলে নেন ম্যাকলারেনের শট। তবে ২৪ মিনিটে আর ভুল করেননি অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাইকার। পেত্রাতোস ডানদিকে বল বাড়ান কোলাসোর কাছে, তিনি বক্সের মধ্যে ম্যাকলারেনকে খুঁজে নেন এবং ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোল করে স্কোরলাইন ২-০ করেন।

আক্রমণ অব্যাহত রাখে মোহনবাগান। জেসন কামিন্সের পাস থেকে ম্যাকলারেনের কাছ থেকে আরেকটি সুযোগ তৈরি হলেও তা ব্লক হয়ে যায়। ৪২ মিনিটে তৃতীয় গোলটি আসে সেন্টার-ব্যাক আলবার্তো রদ্রিগেজের পা থেকে। দূরপাল্লার নিচু শট অমরিন্দরকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। তবে এক মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান কমায় ওড়িশা। থোইবা সিংয়ের লম্বা বল বক্সে পেয়ে রহিম আলি নিয়ন্ত্রণে এনে গোলরক্ষক বিশাল কাইথকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান, স্কোর হয় ৩-১।

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আবারও গোল পায় মোহনবাগান। ডানদিক দিয়ে কোলাসোর ক্রসে খুব কাছ থেকে বল জালে ঠেলে দিয়ে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন ম্যাকলারেন। ফলে ৪-১ ব্যবধানে বিরতিতে যায় স্বাগতিক দল। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল চালিয়ে যায় মোহনবাগান। ৫৩ মিনিটে কামিন্সের পাস থেকে কোলাসোর শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। অন্যদিকে ইসাক ভানলালরুয়াতফেলার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

৬৬ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি সুযোগে পেত্রাতোসের শটও অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। এরপর কিছু সময় ওড়িশার রক্ষণভাগ এবং অমরিন্দর সিং ভালোভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ৮৭ মিনিটে ওড়িশা আরেকটি গোলের সুযোগ পেলেও বিশাল কাইথ দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

এর ঠিক এক মিনিট পরেই পঞ্চম গোলটি আসে। বদলি মনভীর সিং মাঝমাঠ থেকে লম্বা বল বাড়ান, তা ধরে পেনাল্টি বক্সের সামনে থেকে শান্ত মাথায় গোল করে নিজের চতুর্থ গোল সম্পূর্ণ করেন ম্যাকলারেন। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-১। শেষ দিকে কাইথ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। শেষ পর্যন্ত ৫-১ ব্যবধানে দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja