#মালবাজার: মাল ব্লকের ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে বয়ে গেছে চেল নদী। প্রতিবছর বর্ষার সময় নদীর স্রোতে পাহাড়ের উপর থেকে বালি পাথর বয়ে আনে এই পাহাড়ি নদী। স্বাভাবিকভাবে নির্মাণ কার্যের প্রয়োজনীয় উপাদান বালি পাথর সমৃদ্ধ এই নদীর বক্ষ। এই কারণে প্রতিদিন সরকারি অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে নদীর বুকে জেসিপি মেশিন নামিয়ে ডাম্পার বোঝাই বালি পাথর চলে যায় দূর থেকে দূরান্তে এমনকি প্রতিবেশী বাংলাদেশেও এই বালি পাথর পাঠানো হয়। বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক এই কাজে বহু মানুষ লিপ্ত হয়েছেন। যার ফলে রাত দিন নদীর বুক খনন করে বালি পাথর তোলা হচ্ছে।

এভাবে বালি পাথর তোলার ফলে আশেপাশের জনজীবনে নানান সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বাড়ছে বন্যার আশঙ্কা। আশেপাশের বস্তি এলাকায় জলের স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। প্রতিদিন ডাম্পার ও জেসিবি মেশিন চলাচলের ফলে এলাকায় বায়ু দূষণ ও শব্দ দূষণ বাড়ছে। এই সমস্যায় পড়ছে চেল বস্তি ও অন্যান্য এলাকার মানুষ।

অবিলম্বে নদীর বুকে অবৈধ খনন বন্ধ করা এবং ডাম্পারের দৌরাতো বন্ধ করার দাবিতে শুক্রবার দুপুরে ওই এলাকার কয়েকশো মানুষ সমবেত ভাবে মালবাজারে এসে বিডিও, এসডিও এবং ভূমি রাজস্ব দপ্তরের স্মারকলিপি দিল।
স্মারক লিপি প্রধান শেষে এলাকার বাসিন্দা আনন্দ বিশ্বকর্মা বলেন, প্রতিদিন নদী খননের ফলে আমাদের এলাকায় কুয়ার জল শুকিয়ে গেছে। প্রাকৃতিক জলাশয় গুলো শুকিয়ে গেছে।

আমরা তীব্র জল সংকটের মধ্যে দিয়ে দিন অতিবাহিত করছি। রাতদিন ডাম্পারের যাতায়াত ও নদী খননের ফলে প্রচন্ড শব্দ হয় এবং আশেপাশের এলাকা ধুলায় ঢেকে যায়। ফলে রাতে বাড়িতে ঘুমানো যায় না রাস্তায় চলাচল করা যায় না। আমাদের ওখানে অনেক পড়ুয়া রয়েছে যাদের পড়াশোনায় অসুবিধা হয়।
বিকট শব্দে বয়স্ক মানুষদের নানান সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই কারণে আজ আমরা সরকারি মহলে এই কাজ বন্ধ করার দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি।

অপর এক বাসিন্দা রাজেশ বিশ্বকর্মা বলেন, এর আগেও আমরা কয়েকবার মাননীয় মহকুমা শাসক ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। নদী খনন বন্ধের আশ্বাসও আমাদের দিয়েছিল। কিন্তু কোন ফল হয়নি প্রতিদিন এবং রাতে নদী খনন চলছে এবং আমরা নানান সমস্যার মধ্যে দিয়ে দিন যাপন করছি। অবিলম্বে ডাম্পার চলাচল ও নদী খনন বন্ধ হোক।




