
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ চোরাশিকার ও পরিযায়ী পাখিদের মৃত্যুর ঝুঁকি রুখতে অভিনব পদক্ষেপ নিল রায়গঞ্জ বনবিভাগ। রায়গঞ্জ ব্লকের হাতিয়া পালইবাড়ি এলাকায় অবস্থিত দুটি পুকুর থেকে ফেলে রাখা নাইলনের জাল উদ্ধার করে সরিয়ে দেওয়া হয় বনকর্মীদের উদ্যোগে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই দুই নম্বর পুকুরে নাইলনের জাল ফেলে রাখা ছিল। ফলে পরিযায়ী পাখিরা খাবারের সন্ধানে জলে নামলে জালে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই রায়গঞ্জ রেঞ্জের রেঞ্জার সৌভিক ঝায়ের নেতৃত্বে বনদপ্তরের একটি দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে জালগুলি তুলে আনে।

বনদপ্তর সূত্রে খবর, প্রতি বছর শীতের মরশুমে রায়গঞ্জের বিস্তীর্ণ জলাভূমি এলাকায় বহু পরিযায়ী পাখি আসে। বিশেষ করে কুলিক পাখিরালয় সংলগ্ন অঞ্চলে পাখিদের আনাগোনা বেশি থাকে। এই অবস্থায় খোলা জলে ফেলে রাখা নাইলনের জাল তাদের জন্য প্রাণঘাতী ফাঁদে পরিণত হতে পারে। বন আধিকারিক ভূপেন বিশ্বকর্মা জানান, পরিযায়ী পাখিদের সুরক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। কোথাও অবৈধ জাল বা ফাঁদ দেখতে পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই উদ্যোগে খুশি পরিবেশ কর্মীরা। পশুপ্রেমী গৌতম তান্তিয়ার মতে, বনবিভাগের এমন সক্রিয় ভূমিকা পাখি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ অবৈধভাবে জাল না ফেলে এবং চোরাশিকার রুখতে সকলে এগিয়ে আসে। বনদপ্তরের এই পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তির হাওয়া বইছে। পরিবেশপ্রেমীদের আশা, নিয়মিত নজরদারি থাকলে পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে রায়গঞ্জ আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।








