
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, ইটাহারঃ মঙ্গলবার দুপুরে ইটাহার থানার অন্তর্গত ২ নম্বর সুরুন গ্রাম পঞ্চায়েতের বালিজোল গ্রামের একটি বাড়ির ঘরের খড়ের গাদায় আশ্রয় নেওয়া অবস্থায় একটি গন্ধগোকুল উদ্ধার করা হয়। হঠাৎ করেই বাড়ির সদস্যরা প্রাণীটিকে দেখতে পান। গ্রামবাসীরা সামনে গেলেও, সেটি পালিয়ে যায়নি। স্থানীয়দের অনুমান, গন্ধগোকুলটি সম্ভবত অসুস্থ ছিল।

প্রাণীটিকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল সামাদ ও আসাদ আলি খবর দেন উত্তর দিনাজপুর পিপলস ফর এ্যানিম্যালস এর সদস্যদের। খবর পেয়ে সংস্থার সদস্যরা দ্রুত বালিজোল গ্রামে পৌঁছে গন্ধগোকুলটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। প্রাথমিকভাবে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংস্থার পক্ষ থেকে গৌতম তান্তিয়া বলেন, গন্ধগোকুল (Indian Civet) বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের সিডিউল ওয়ানভুক্ত একটি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। গত তিন থেকে চার মাসে লোকালয় থেকে এভাবে পাঁচটি গন্ধগোকুল উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংস্থার দাবি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গন্ধগোকুল নিশাচর প্রাণী। দিনের বেলায় তারা সাধারণত বের হয় না এবং মানুষকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বারবার তাদের লোকালয়ে চলে আসার ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, বন-জঙ্গল কমে যাওয়া ও খাদ্যের অভাবই এর প্রধান কারণ। পাশাপাশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কিছু অংশের মধ্যে এখনও এদের শিকার করার প্রবণতা রয়েছে, যার ফলে আতঙ্কিত হয়ে তারা কখনও গোয়ালঘর, কখনও রান্নাঘর, আবার কখনও খড়ের গাদায় আশ্রয় নিচ্ছে।

এই ধরনের বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী রক্ষায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থা। গন্ধগোকুলের শিকার বন্ধ ও সংরক্ষণে জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বনদপ্তরের কাছেও শীঘ্রই জোরালো আবেদন জানানো হবে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।






