
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সূচনার পর থেকেই মরণোত্তর দেহদানের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলেছে উত্তর দিনাজপুর জেলায়। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার আবারও এক মানবিক ও মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হল রায়গঞ্জে। উকিলপাড়া নিবাসী সুস্মিতা রায় মহাশয়ার মরণোত্তর দেহদান সম্পন্ন হল রায়গঞ্জ গভঃ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।

দীর্ঘদিন ধরেই রায়গঞ্জ সিস্টার নিবেদিতা সেবা প্রতিষ্ঠান মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদান সংক্রান্ত সচেতনতা ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৬ জন দাতা মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। আগে জেলার কোনও দাতার ইচ্ছা পূরণ করতে হলে নর্থ বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দেহ নিয়ে যেতে হত, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বর্তমানে রায়গঞ্জে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চালু হওয়ায় এই কাজ অনেকটাই সহজ হয়েছে বলে জানান সমাজকর্মীরা।

এ প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ সিস্টার নিবেদিতা সেবা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বিশ্বদীপ চক্রবর্তী বলেন, ভবিষ্যতে জেলার বন্ধ হয়ে যাওয়া আই ব্যাঙ্ক পুনরায় চালু হলে বহু অঙ্গদাতার ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হবে এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে জেলার অবদান আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও জানান, উকিলপাড়া নিবাসী ও রায়গঞ্জ সিস্টার নিবেদিতা সেবা প্রতিষ্ঠানের সদস্যা সুস্মিতা রায় মহাশয়া গত ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল কলকাতার গণদর্পণ ও রায়গঞ্জ সিস্টার নিবেদিতা সেবা প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ সহযোগিতায় মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি ভোররাত্রি ৩টা নাগাদ তাঁর প্রয়াণ ঘটে। তাঁর শেষ ইচ্ছার প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে পরিবারের সম্মতিতে এবং সেবা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে তাঁর দেহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণার কাজে রায়গঞ্জ গভঃ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দান করা হয়।

সমাজকর্মী বিশ্বদ্বীপ চক্রবর্তী বলেন, রায়গঞ্জের উকিলপাড়া নিবাসী, সুস্মিতা রায়ের মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। মৃত্যু কালে রেখে যান তাঁর পুত্র প্রতীপ রায় ও স্বামী প্রদ্যুৎ কুমার রায়কে।

এই মানবিক সিদ্ধান্তে শোকের মধ্যেও পরিবারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সমাজকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাঁদের মতে, এমন দেহদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসা শিক্ষায় অমূল্য অবদান রাখবে এবং সমাজে দান ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেবে।






