
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ ইটাহার শ্যামাপল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব এবার এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক উদ্যোগের সাক্ষী হতে চলেছে। পূজার থিম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের এক বিস্মৃতপ্রায় পুতুলনাচ – ‘চদর বদর’।

গ্রামীণ পরিবেশের প্রাকৃতিক ছায়ায়, সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা আর সীমিত সাধ্যে সাজানো এই পূজামণ্ডপে ফিরে আসছে সাঁওতালি লোকশিল্পের প্রাণ। আয়োজকরা জানান, বহু বছর আগে উত্তর দিনাজপুর জেলার মাটি থেকে হারিয়ে যাওয়া ‘চদর বদর’ আবার প্রাণ ফিরে পাবে শ্যামাপল্লীর হাত ধরে।

জানা গেছে, ‘চদর বদর’, এক বিরল পুতুলনৃত্য, যেখানে কাঠের তৈরি ক্ষুদ্র পুতুলগুলি জীবন্ত হয়ে ওঠে দড়ি ও লিভার ব্যবস্থার মাধ্যমে। ‘চদর’ অর্থ দর্শকদের চোখ থেকে প্রযুক্তিগত অংশ আড়াল করার জন্য ব্যবহৃত কাপড়, আর ‘বদর’ মানে বাদ্যযন্ত্র সহযোগে প্রদর্শনী। এই নাচের মাধ্যমে সাঁওতাল সমাজের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিক্ষণীয় গল্প তুলে ধরা হয়।

এই শিল্প একসময় দুর্গাপূজার দশমীতে বা হুদু দুর্গার পূজায় বিশেষভাবে পরিবেশিত হত, যেখানে শিল্পীরা জমিদারদের আমন্ত্রণে নৃত্য পরিবেশন করতেন এবং পুরষ্কার পেতেন। চদর বদরের সঙ্গী হতো সাঁওতালি বাদ্যযন্ত্র—বাজে বানাম, লাগারা, তিরেন্য (বাঁশি), ও মাদল।

দূর্ভাগ্যবশত, দমন মুর্মুর মৃত্যুর পর এই অনন্য শিল্প ইটাহার থেকে হারিয়ে যায়। এবার শ্যামাপল্লীর পুজো কমিটি দমনের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে ও তাঁর শিল্পকে পুনর্জীবিত করতেই এই সাহসী থিমকে বেছে নিয়েছে।

শ্যামাপল্লী সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সদস্য তথা গবেষক ড. অভিজিৎ চৌধুরী বলেন,আমরা চাই আমাদের আগামী প্রজন্ম দমন মুর্মুর মতো শিল্পীদের কথা জানুক। তাঁদের হাত ধরে গড়ে ওঠা এই ঐতিহ্য যেন শুধুই অতীত না হয়ে থাকে, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের গর্ব হয়ে দাঁড়াক।

শুধু প্রতিমা নয়, মণ্ডপজুড়ে থাকবে চদর বদরের বিভিন্ন উপকরণ, শিল্পীদের হাতে নির্মিত কাঠের পুতুল, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, আর লাইভ পারফরম্যান্সের ব্যবস্থাও। দুর্গোৎসব কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং তা লোকসংস্কৃতির উজ্জ্বল মঞ্চ – এই বার্তাই যেন নতুন করে তুলে ধরছে ইটাহারের শ্যামাপল্লী।






