
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ দূর্গা পুজোতে সরকারি অনুদান একবারও নেয়নি বিদ্রোহী। সরকারি অনুদান প্রত্যাখ্যান করে এবারও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে রাজ্যে এত নারী অত্যাচার, সেখানে সরকারী অনুদান নেওয়া মানে নারী জাতির প্রতি অবজ্ঞা করা। আর সেই ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষ যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। বাজারের দোকানি থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষ, এমনকি পড়ুয়া কিশোর-কিশোরীরাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা দিচ্ছেন নিঃসংকোচে।

ক্লাবের সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, দূর্গা পুজো শুধু আনন্দের নয়, মানুষের মিলনমেলা। সরকারি টাকার ওপর নির্ভর না করে জনতার অবদানে পুজো হলে তার গরিমা আরও বেড়ে যায়। এতে মানুষের সঙ্গে এক অটুট যোগ তৈরি হয়।” তিনি বলেন, এবার আমাদের ৫৫তম বর্ষে পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে মন্ডপ তৈরি করছেন রায়গঞ্জের মন্ডপ শিল্পী। প্রতিমা কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পী করছেন। পাশাপাশি আলোর দায়িত্বে থাকছেন রায়গঞ্জের শিল্পীরাই। তিনি জানান, আমাদের পুজোর বিশেষত্ব হল, অষ্টমীতে ৫ হাজার মানুষকে ভোগ বিতরণ করা হয়। তবে প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সীর স্মৃতিতে গুনীজন, ছাত্র ছাত্রী সংবর্ধনা বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে বিদ্রোহীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে শহরের সংস্কৃতিমহল। শিল্পী ভানু পালের মতে, সরকারি অনুদানের টাকায় অনেক সময় পুজোর স্বতঃস্ফূর্ততা হারিয়ে যায়। সেখানে মানুষের টাকায় আয়োজিত পুজো সত্যিই ‘জনতার পুজো’।

এই ক্লাবের চাঁদা সংগ্রহের সময় দেখা যাচ্ছে এক অন্য ছবি। একদিকে ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এসে দিচ্ছেন মোটা অঙ্ক, অন্যদিকে সাধারণ শ্রমিক বা দোকানি তাঁদের সামান্য উপার্জন থেকেও অনুদান দিচ্ছেন হাসিমুখে। এক চা দোকানি জানালেন, পঞ্চাশ টাকা দিয়েছি। এটা শুধু টাকা নয়, আমাদের অংশগ্রহণ। রায়গঞ্জ শহরে তাই এখন উৎসবের আবহও অন্যরকম। সরকারি অনুদান ছাড়াই মানুষের ভালোবাসা ও ঐক্যে ভর করে বিদ্রোহীর পুজো ইতিমধ্যেই হয়ে উঠেছে নজিরবিহীন।









