
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ সারা দেশের মধ্যে সেরা দক্ষ প্রশাসক হওয়ার খেতাব আগেই জুটেছিল। এবার একটি ইকো ট্যুরিজম পার্ক তৈরি করে জেলাকে নতুন উপহার দিতে চলেছে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। উত্তর দিনাজপুর জেলার জেলাশাসক, রায়গঞ্জ পুলিশ জেলা সুপার এবং মহকুমাশাসকের বাংলোর গায়ে লাগানো অর্ধসমাপ্ত শিশু উদ্যানটিই বদলে যাচ্ছে অত্যাধুনিক ইকো ট্যুরিজম পার্কে। কর্ণজোড়া অফিস চত্বরে এমন পার্ক তৈরি হলে বদলে যাবে অর্থনীতি বলে জানিয়েছেন শহরের শিল্পীরা।

জানা গেছে, লকডাউনের আগে কেন্দ্র সরকারের ১০০ দিনের কাজের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় সরকারি উদ্যোগে শুরু হয় কেবলমাত্র শিশুদের জন্য একটি শিশু উদ্যান। এই পার্ক নির্মাণে ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। প্রধান ফটক, মাটি কেটে গর্ত, গাছ রোপন সহ নানান কাজ হয়। পাথর বসিয়ে রাস্তাও তৈরি হয়। বড় পুকুর বানানো হয় বোটিংয়ের জন্য। কিন্তু কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে ১০০ দিনের কাজের অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হতেই এই কাজও বন্ধ হয়ে যায়। এরকম পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল এই পার্কের কাজ।

এরমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই অসমাপ্ত পার্কে প্রেমিক প্রেমিকাদের ভিড় জমানো দেখে খবর করে নিউজ বৃত্তান্ত। খবরের প্রেক্ষিতে যুবক যুবতীদের আনাগোনা বন্ধ হয়।

এদিন ওই অসমাপ্ত পার্কে গিয়ে দেখা গেল, কাজ চলছে দ্রুত। কিসের কাজ হচ্ছে জানতে চাইলে ঠিকাদার সংস্থার পক্ষে নবদ্বীপের বাসিন্দা মদন গোপাল দেবনাথ বলেন, এই পার্কে নানা ধরনের বাঁশ ও কাঠের ঘর তৈরি হবে। রেস্তোরাঁ হবে। তার কাঠামো তৈরি করছি। এই ইকো ট্যুরিজম পার্কে ঢোকার মুখে একটি গাছঘর হবে। যেখানে সিড়ি দিয়ে ওপরে উঠে ছেলেমেয়েরা বসতে পারবে। কাঠামো তৈরি হয়েছে। এখন ঘর বানানো বাকি।

এছাড়াও মুর্শিদাবাদ থেকে বাঁশ আনা হয়েছে, যেগুলো দিয়ে কটেজ তৈরি হচ্ছে, যার মনে ৪ জন করে বসতে পারবে। কাজ শুরু হয়েছে বছর খানেক আগে। পুজোর আগে পুরো কাজ শেষ করতে হবে। প্রথম দিকে ১৬ জন মিস্তিরি কাজ করলেও এখন ৬/৭ জন মিস্তিরি এখানে থেকেই কাজ করছে বলে জানালেন মদন বাবু।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কর্ণজোড়া অফিস চত্বরে এমন নতুন পার্কের জন্য ইতিমধ্যেই ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এছাড়াও পার্কের অন্যান্য কাজের জন্য সরকারের কাছে আরও বরাদ্দ চেয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। সেই প্রস্তাব পাশ হলে, নিঃসন্দেহে রায়গঞ্জ বাসীর নতুন ঠিকানা হবে এই ইকো ট্যারিজম পার্ক। নতুন এই পার্ক এলাকাবাসীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে বলে বিশ্বাস জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের।






