
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ বহুদিনের পুরোনো ব্রিজটার নামই ‘ভাঙা ব্রিজ। আর নিচ দিয়ে বয়ে গেছে বীনা নদীর ক্যানেল। এই ক্যানেল সারা বছর শুকনো থাকলেও প্রতি বছর বর্ষায় বীনা নদীর বাড়তি জল এসে ভরিয়ে তোলে এলাকা। ডুবে যায় আশেপাশের নিচু জায়গা গুলো। সেই ব্রিজের হাল এখন একেবারে বেহাল। ভেঙে গিয়েছে রেলিং , উঠে গেছে পিচের পলেস্তরা।ক্ষয় হয়ে গিয়েছে ব্রিজের নীচের লোহার পিলার। এতেই বিপদে পড়েছেন দূর্গাপুর হাট, লাইনবাজার, রাহুই, মহাশুন্ডা এলাকার বহু মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা বিপুল সরকার বলেন, দুর্গাপুর একটি বর্ধিষ্ণু জনপদ। ইংরেজ আমলে এখানে গড়ে ওঠে জমিদার বাড়ী। এই জমিদার বাড়ির তত্ত্বাবধানে কয়েক একর জায়গায় বসে দুর্গাপুর হাট। এই হাটে মালপত্র নিয়ে যাতায়াতের জন্য একটি মাত্র রাস্তা। সেই রাস্তাতেই পড়ে এই লোহার পিলার দিয়ে তৈরি ভাঙা ব্রিজ। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন মাঝে মধ্যেই চলাচল বন্ধ রাখে। যে কোনো মূহুর্তে এই ব্রিজ ভেঙে পড়তে পারে।

প্রবীন বাসিন্দা মন্টু বর্মন বলেন, এই ব্রিজ বহুদিন আগে তৈরি হয়েছে। বীণা নদীর এই ক্যানেলে সারাবছর জল থাকে না। এখন ব্রিজ দুলছে। দু পাড় বসে গেছে। যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার মত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। শিগগিরই নতুন ব্রিজ তৈরি করা দরকার।

ব্রিজের পাশেই বাড়ি ও দোকান ভাস্বতী বর্মনের। তিনি বলেন, পুরো ব্রিজটা এখন নড়বড়ে হয়ে গেছে। রেলিং ভেঙে রয়েছে। পিচ পলেস্তারা খসে গিয়েছে। কিন্তু মেরামতির কোনো নামগন্ধ নেই। এতে যাত্রীবাহী বাহন চলাচল বারন। পায়ে হেঁটে চলাচল চলছে। মালপত্র আনতে বহুদূর ঘুরে আসতে হচ্ছে। কবে যে ব্রিজ তৈরি হবে, সেই আশায় আছি।

স্থানীয় যুবক দিবাকর সরকার বলে, এমনিতেই এর রেলিং ভাঙা, বাঁশ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। লোহায় মরচে ধরেছে। অথচ এই ব্রিজটাতে যাত্রীবাহী গাড়ি বন্ধ করে দেওয়ায় পড়ুয়া ও ব্যবসায়ীদের বহুদূর ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এলাকার মেম্বার, প্রধান একবার এসে দেখে চলে গেছে। তাদের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না।

এরকম পরিস্থিতিতে, ৩ নম্বর দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান স্বাতী দাস সরকার বলেন, বর্ষা পেরোতেই আমরা ব্রিজের খানাখন্দ ভরাট করব। আর জেলা পরিষদের কাছে পূর্ণ মেরামতির দাবি জানাবো। এখন দেখার বিষয় এই যে, কবে এই ভাঙা ব্রিজ তার বদনাম ঘুচায়, সেদিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।






