
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ কখনও পঞ্চম শ্রেণির সৌভিক, কখনও দশম শ্রেণির প্রতিমা—কেউ হারিয়েছে টাকা, কেউ ভুলে রেখে গেছে, ব্যাগ, কলম বা পয়সা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, রায়গঞ্জের ভূপালচন্দ্র বিদ্যাপীঠে সেই হারানো জিনিস, প্রতিবার ঠিকই ফিরে এসেছে প্রকৃত মালিকের হাতে। টাকা নয়, সততাই এখানে বড় সম্পদ। প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর মন যেন এক একটি নির্মল আয়না, যেখানে প্রতিফলিত হয় মূল্যবোধ আর মানবিকতার দীপ্ত আলো।

স্কুলের প্রায় ৩৩০০ পড়ুয়ার মধ্যে কেউ যদি এক টাকার কয়েনও হারায়, তখনও তাকে নিয়ে উদ্বেগ নেই। কারণ তারা জানে,স্কুল চত্বরে কিছু হারালে তা অচিরেই ফিরবে নিজের কাছে। এমন নির্ভরতা আর বিশ্বাস জন্মেছে দীর্ঘ দিনের নৈতিক শিক্ষা ও সযত্ন চর্চার ফলে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক উৎপল গোস্বামী আবেগ মিশ্রিত গলায় বলেন, “এই স্কুলে আমরা কেবল অঙ্ক, বাংলা বা ইংরেজি শেখাই না, শেখাই মানুষ হওয়া। মানবিকতা, সহানুভূতি আর সততার চর্চা আমাদের শিক্ষার অপরিহার্য অংশ। শিক্ষকরা নিজেরাই যে আদর্শ মেনে চলেন, তারই প্রভাব পড়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে।”

সহকারী প্রধান শিক্ষক কাঞ্ছিরাম রায় বলেন, “সকালে সমবেত প্রার্থনার পর হোক বা ক্লাস রুম, সবসময়ই আমরা নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে ছোট ছোট গল্প বলি, আলোচনা করি। অনেক সময় ছোটদের বলা হয়—হারানো জিনিস তুলে নেওয়ার আগে ভাবো, যদি সেটা তোমার হতো? এই একটুকু ভাবনাই বদলে দেয় মন।”

ভূপালচন্দ্র বিদ্যাপীঠে তৈরি হচ্ছে এমন এক প্রজন্ম, যারা কেবল পরীক্ষায় নম্বর পায় না, জীবনের পরীক্ষাতেও সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। যে সমাজে প্রতিদিন নানা ধরনের লোভের মুখোমুখি হতে হয়, সেই সমাজে এমন স্কুল যেন এক শান্ত আশ্রয়, এক আলোকস্তম্ভ। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীরব কিন্তু দৃঢ় বার্তা—সততা এখনও আছে, এবং তা বাঁচিয়ে রাখে শিশুদের হৃদয়। রায়গঞ্জের মাটিতে এমন মানবিক শিক্ষার পরশ সত্যিই গর্বের বিষয়।





