#মালবাজার: আজ বুধবার ৩০জুলাই ঠিক দুই মাস বাদেই শারদ উৎসবের মহাষ্টমী।মন্দিরে মন্দিরে বাজবে ঘন্টা, ভাবগাম্ভীর্যে উচ্চারিত হবে পুরোহিতের মন্ত্র।মহাষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়ার ব্যস্ততা। তার ঠিক দুই মাস আগে কেমন আছে ডুয়ার্সের পরিবেশ। বুধবার সকাল থেকে আকাশ মেঘে ঢাকা। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়েই চলছে। কখনো আবার প্রাবল্য বাড়ছে বর্ষনের। এইরকম কখনো বৃষ্টি কখনো রোদ পরিবেশে দূর্গা পূজার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যেই পূজা কমিটি গুলো তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

এদিক ওদিক কাঠামো পূজা হয়ে গেছে। চরম ব্যস্ততা শুরু হয়েছে মৃৎ শিল্পীদের কুমারটুলিতে। ডুয়ার্স এলাকায় আলাদা করে কোন কুমারটুলি নেই। মৃৎশিল্পীরা তাদের বাড়ির সামনে পলিথিন চাদর টাঙিয়ে অস্থায়ী ঘর বানিয়ে প্রতিমা তৈরি করেন। কেউ কেউ এদিক ওদিক ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী তাবু টাঙিয়ে নেন। তাতেই চলে সারা বছর প্রতিমা তৈরীর কাজ।

মালবাজার সুভাষ মোড় এলাকায় প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করে চলছেন মৃৎশিল্পী অরুন পাল। প্রায় আশি ছুই ছুই বয়সে এখনো মাটির তালকে মূর্তিতে রূপান্তরিত করেন। সাথে কয়েকজন সহযোগী থাকলেও চক্ষুদান নিজেই করেন। তিনি জানালেন, প্রতিবছরই মাটি থেকে অন্যান্য সামগ্রির দাম বাড়ছে। তাই পরিস্থিতি বুঝে আমরাও কিছুটা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছি।
ইতিমধ্যেই অর্ডার আসতে শুরু করেছে।

শালবাড়ি মোরে গত কয়েক বছর ধরে মূর্তি বানাচ্ছেন শিল্পী লক্ষণ পাল। কার কারখানায় ইতিমধ্যেই মূর্তিতে মাটি পলেপ পড়ে গেছে। তিনি জানান, এবার ব্যস্ততা একটু বেশি, হাতে সময় নেই বিশ্বকর্মা ও দুর্গাপূজা প্রায় একই সময়ে হতে চলছে। মাঝে মনসা পূজা, ঝুলন ও জন্মাষ্টমী রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ব্যস্ততা একটু বেশি। সবদিক ঠিক থাকলে সময়মতো মন্ডপে প্রতিমা পৌঁছে দিতে পারব। সাধনা হল এলাকায় দীর্ঘদিন প্রতিমা বানান অরুন কুমার পাল।

তিনি জানান, প্রতিবছরই এই সময় এইরকম রোদ বৃষ্টির সমস্যা থাকে তারমধ্যেই মূর্তি তৈরি করতে হয়। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে সেই ভাবেই মূর্তি তৈরি হচ্ছে। টুকটাক অর্ডার হয়ে গেছে। এভাবেই মাল এলাকার ওদলাবাড়ি চালসা ও নাগরাকাটা এলাকার মৃৎশিল্পীরা পূজা কমিটি গুলোর চাহিদা মত মূর্তি তৈরি করছেন। সাথে বিশ্বকর্মা মনসা গণেশ সহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরিতে রাতদিন এক করে কাজ করে চলছেন।








