
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ রায়গঞ্জ শহরে একের পর এক জলাশয় বুজিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এবার সরব হলেন শহরের সাংসদ কার্তিক পাল। পুকুর ভরাট রোধে রাজ্য সরকারের একাধিক আইন থাকা সত্ত্বেও, তা কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসককে লিখিতভাবে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাংসদ।

সাংসদ কার্তিক পালের দাবি, “জলাশয় ভরাট হয়ে যাচ্ছে, অথচ প্রশাসন নির্বিকার। নাগরিক সমাজের তরফে আমি অনুরোধ পেয়েছি। তাই জেলাশাসককে অনুরোধ করছি, দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।” চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, পীরপুকুর, জি আর বক্সীর পুকুর, ডাক্তার গোপের পুকুর, প্রাচীন রাজপুকুর ও সঞ্জীব বসুর বাড়ির পাশের পুকুরে একসময় বর্ষায় জল জমত, যা শহরের জলনিকাশির ভার বহন করত। এখন সেগুলো ভরাট হওয়ায় শহরের পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

সাংসদের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। সংগঠনের জেলা সম্পাদক পার্থ প্রতীম ভদ্র জানান, “আমরা আগেও ডেপুটেশন দিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। সাংসদের হস্তক্ষেপে হয়তো এবার কিছু হবে।” অন্যদিকে, কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ও প্রাক্তন বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত এই জলাশয় বুজিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ব্যর্থ পুরসভার দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর কথায়, “পুরবোর্ডের দুর্বল ব্যবস্থাপনাই এই ভরাটের কারণ। তারা শুধু চোখ বুজে বসে আছে।”

তবে এ নিয়ে পালটা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি কানাইয়া লাল আগরওয়ালা। তিনি বলেন, “প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। কোথাও পুকুর ভরাটের খবর পেলেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অযথা রাজনীতি না করে সহযোগিতা করুন।” শহরের পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিকেরা মনে করছেন, জলাশয় ধ্বংস বন্ধ না হলে আগামী দিনে শহর জলবন্দি হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। প্রশাসনের সক্রিয় পদক্ষেপের দিকে এখন তাকিয়ে রায়গঞ্জবাসী।







