
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর অবশেষে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর (এম.এ.) স্তরের পাঠ্যক্রম চালু হল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে কোর্সটি শুরু হবে।

সাঁওতালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দুই দশক পর রাজ্যের উত্তরবঙ্গে এই প্রথম কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ভাষায় স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরে ইতিমধ্যেই সাঁওতালি ভাষা পড়ানো হয়, এবার তার পরবর্তী ধাপ চালু হওয়ায় খুশি শিক্ষার্থী ও গবেষক মহল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড দুর্লভ সরকার জানান, প্রথম পর্যায়ে সাঁওতালি এম.এ. কোর্সে প্রায় ৫০ টি আসনে ভর্তি নেওয়া হবে। পাঠ্যক্রমে সাঁওতালি সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি, অনুবাদ চর্চা ও গবেষণামূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সাঁওতালি ভাষাভাষী সমাজের একাংশ বহুদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আদিবাসী সংগঠন ইউফাও এর উত্তরঙ্গ কনভেনার দিলিপ কিস্কু বলেন, আগে বিভিন্ন সংগঠন ও পরে ইউফাও এ মিলিত ভাবে একটানা আন্দোলন, অনশন ও স্মারকলিপি দেওয়ার ফলেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশেষে এই উদ্যোগ নেয়।

অধ্যাপক বাপি সরেন বলেন, “এটি শুধু একটি ভাষার নয়, একটি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের সাফল্য। বহু বছর ধরে আমরা এই কোর্স চালুর জন্য সংগ্রাম করেছি। আজ তা বাস্তব হলো।”

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই বিভাগের অধীনে এম.ফিল ও পিএইচ.ডি.-র মতো গবেষণামূলক কোর্সও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের আদিবাসী সমাজের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




