Explore

Search

July 9, 2026 6:13 pm

IAS Coaching

কলি যুগেও দ্রৌপদী! দুই ভাইয়ের ঘরনী হলেন সুনীতা, হিমাচলে হাট্টি প্রথায় চর্চার ঝড়

নিউজ ডেস্কঃ পাঁচ পাণ্ডবের যুগে দ্রৌপদী একাই ছিলেন পাঁচ স্বামীর পত্নী। কালচক্র ঘুরে আবার যেন সেই ইতিহাস ফিরে এল হিমাচলের পাহাড়ে। শিল্লাই গ্রামের দুই ভাই—প্রদীপ ও কপিল—একসঙ্গে বিয়ে করলেন সুনীতা নামের এক যুবতীকে। অবশ্য এই বিয়ে হয়েছে হিমাচলের পুরনো ‘হাট্টি’ প্রথা মেনে, যেখানে ভাইয়েরা একসঙ্গে একটি স্ত্রীকে গ্রহণ করেন।

শতাব্দী প্রাচীন এই রীতির চল আজকাল প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু সুনীতা যেন নতুন প্রাণ ফেরাল সেই ঐতিহ্যে।

প্রদীপ হিমাচল প্রদেশের জল শক্তি বিভাগে কর্মরত। ভাই কপিল আবার পাড়ি দিয়েছেন বিদেশে, সেখানেই কর্মসূত্রে রয়েছেন। কিন্তু ভাইদের এই যুগল বিবাহে ছিল না কোনও দ্বিধা বা টানাপোড়েন। একেবারে খোলা মনে, সম্মতিতে, পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে বিবাহ সম্পন্ন করেছেন তিনজনেই।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া—কেউ বলছেন, ‘‘এ কী কলি যুগের দ্রৌপদী!’’, তো কেউ বলছেন, ‘‘প্রাচীন প্রথা নিয়ে নতুন প্রজন্মের এমন খোলামেলা মানসিকতা প্রশংসনীয়।’’

শিল্লাই গ্রামে এই হাট্টি প্রথা মূলত কৃষি সমাজে চালু ছিল, জমিজমা ভাগাভাগির সমস্যায় যাতে পরিবারে ভাঙন না ঘটে, তাই এমন রীতি চালু হয়েছিল একসময়। যদিও এখন এই রীতি দেখা যায় হাতে গোনা কয়েকটি পরিবারেই।

সুনীতা নিজেও জানিয়েছেন, ‘‘আমি খুশি। দুই ভাইয়ের সঙ্গেই আমার সম্পর্ক স্পষ্ট, ভালোবাসার। আমাদের মধ্যে কোনও বিভেদ নেই।’’

গ্রামের প্রবীণরা বলছেন, ‘‘এ এক সময়ের রীতি ছিল। আজকের যুগে এমন বিয়ে দেখা দুর্লভ। তবে সম্মতিতেই হলে, বলার কিছু নেই।’’

প্রদীপ, কপিল ও সুনীতার এই ব্যতিক্রমী দাম্পত্য জীবন এখন রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কেউ কৌতূহল নিয়ে দেখছেন, কেউ অবাক হয়ে তাকাচ্ছেন, তবে শিল্লাইয়ের আকাশে এখন শুধু একটাই কথা—‘‘দ্রৌপদী ফিরে এল, তাও একুশ শতকে!’’

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja