
চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ শুধু সাইনবোর্ডে সীমাবদ্ধ নয় “শিশু বান্ধব পঞ্চায়েত”। প্রায় ২৭ হাজার জনসংখ্যা নিয়ে, নিঃশব্দে অথচ সুচারুরূপে বাস্তবায়িত হচ্ছে একের পর এক শিশু-কেন্দ্রিক প্রকল্প ও কর্মসূচি। আর সেই নিদর্শনই রেখে চলেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ব্লকের ৪ নম্বর দুর্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েত।


স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান রীনা সরকার বলেন, এই পঞ্চায়েত শিশুদের অধিকার, শিক্ষা, পুষ্টি ও সুরক্ষার দিকে বিশেষ নজর রেখে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিগত এক বছরে এখানে চালু হয়েছে শিশু সুরক্ষা সচেতনতামূলক কর্মশালা, কিশোর-কিশোরী ক্লাবের নিয়মিত বৈঠক, অপুষ্ট শিশু চিহ্নিতকরণ এবং তাদের জন্য বিশেষ পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থাও। স্কুল পড়ুয়াদের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও হাইজিন বিষয়ক ওয়ার্কশপ আয়োজন এখন রীতিমতো নিয়মিত ঘটনা।


পঞ্চায়েত সচিব সত্য দাস জানান, “আমরা শুধু শিশু বান্ধব পঞ্চায়েতের তকমা নিয়েছি তা নয়, প্রতিটি প্রকল্প যেন বাস্তবায়িত হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছি। শিশুদের সুস্থতা ও ভবিষ্যৎই আমাদের অগ্রাধিকার।”

স্থানীয় বাসিন্দা তথা সুদর্শনপুর দ্বারিকা প্রসাদ উচ্চ বিদ্যাচক্রের শিক্ষক প্রনব বর্মনের কথায়, “পঞ্চায়েতের উদ্যোগে স্কুলে এখন স্মার্ট ক্লাস তৈরি থেকে শিশুদের জন্যসবরকম সুবিধা যুক্ত অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র, স্কুল ও পঞ্চায়েতে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানো হয়েছে। এমনকি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।”
বাল্যবিবাহ রোধেও সক্রিয় হয়েছে দুর্লভপুর। স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে পরিবারগুলির মধ্যে। এছাড়াও জন্মনিবন্ধন, কন্যাশ্রী ও সবুজ সাথীর সুবিধা প্রাপ্তিতে বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে পঞ্চায়েত। স্থানীয় ভাটিনগ্রাম হাই মাদ্রাসার মেয়েদের নিয়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পথে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রায়গঞ্জের মহকুমাশাসক কিংশুক মাইতি বলেন, সেভাবে প্রচারের আলোয় না এসেও, নীরবে-নিভৃতে দুর্লভপুর পঞ্চায়েত শিশুদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও উন্নয়নমুখী পরিবেশ তৈরিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে সবরকম সহায়তা করা হয়েছে।

