
#রায়গঞ্জঃ রাধিকাপুর থেকে দিল্লি অভিমুখী সাপ্তাহিক ট্রেনের স্লিপার কোচে রায়গঞ্জের যাত্রী কোটায় এক ধাক্কায় বড়সড় কাটছাঁট। এতদিন যেখানে রায়গঞ্জ স্টেশনের জন্য নির্ধারিত ছিল ১০১টি আসন, তা কমিয়ে করা হয়েছে মাত্র ৫৯। এই সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে রায়গঞ্জ ও উত্তর দিনাজপুর জেলার সাধারণ মানুষ।

ক্ষুব্ধ যাত্রীরা জানান, কোনো রকম আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই আচমকা কোটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা বা কর্মসূত্রে দিল্লিগামী বহু যাত্রী এই ট্রেনের উপর নির্ভরশীল। কোটা হ্রাসের ফলে এখন তাদের টিকিট পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, এটি রায়গঞ্জবাসীর প্রতি সরাসরি অবিচার।

উত্তর দিনাজপুর রেল উন্নয়ন মঞ্চের সম্পাদক অঙ্কুশ মৈত্র বলেন, “রাধিকাপুর-দিল্লি ট্রেনটি কার্যত রায়গঞ্জের জন্যই চালু হয়েছিল। অথচ শুরু থেকেই রায়গঞ্জের কোটা ছিল সবচেয়ে কম। এবার তা আরও কমিয়ে দেওয়া হল, কোনো ঘোষণা ছাড়াই। এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

রায়গঞ্জের নাগরিক সুরজিৎ সরকার বলেন, “এই সিদ্ধান্ত উত্তর দিনাজপুরের প্রতি একেবারে স্পষ্ট অবজ্ঞা। যারা জোন বা ডিভিশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, তারা এবার মুখ খুলুন। আমরা আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হব না। কোটা অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে।”

রেলের পরামর্শদাতা কমিটির সদস্য এবং অমৃত ভারত প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি জানান, “এই সিদ্ধান্ত রীতিমতো অবহেলার ফল। আমি রেলকে অবিলম্বে চিঠি পাঠাব। না হলে পদত্যাগ করব। যতদিন না কোটা ফেরানো হচ্ছে, ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

এই বিষয়ে রেলের পক্ষ থেকে কাটিহার ডিভিশনের চিফ কমার্শিয়াল ইন্সপেক্টর হরি ওঁম বলেন, এটা পুরোটাই রেলের পলিসি। আমরা ডিভিশন স্তরে বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। তবে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি এবং জনরোষের কথা রেল কর্তৃপক্ষকে যে শিগগিরই জানাবো।




