
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, সিমলাপালঃ সবুজায়নের বার্তা নিয়ে কাঁধে কোদাল তুলে চার বছরের বেশি সময় ধরে বাঁকুড়ার জঙ্গলে গাছ লাগিয়ে বেড়াচ্ছেন বাঁকুড়ার সিমলাপাল মদন মোহন হাই স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক গোবিন্দ মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী সঞ্চিতা মণ্ডল—এই দুই পরিবেশপ্রেমী নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন নিঃশব্দে।

জানা গেছে, তাঁরা মূলত সিমলাপালের আশপাশের অরণ্য অঞ্চলে, যেখানে গাছপালা কমে এসেছে বা উজাড় হয়ে গেছে, সেইসব জায়গা খুঁজে বের করেন। তারপর বিশাল পুকুরপাড় কিংবা উন্মুক্ত বনাঞ্চলে লাগিয়ে দেন আম, জাম, কাঁঠাল, বট, অশ্বত্থ, তালসহ নানা প্রজাতির চারা। তাঁদের মতে, এইসব দেশীয় গাছ শুধু পরিবেশ নয়, উপকার করে মানুষ ও জীবজন্তুরও।

গোবিন্দবাবু জানান, “অরণ্য সংহার যেভাবে বেড়েছে, তাতে মন কেঁদে ওঠে। আমাদের লক্ষ্য—প্রতিবছর অন্তত ৫০০ গাছ লাগানো। এবার চতুর্থ বছর। যদিও ছোটোখাটোভাবে গাছ লাগানোর কাজ বহুদিন ধরেই করে আসছি। এবার পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছি।”

এই কাজের পিছনে তাঁদের কোনও এনজিও বা সরকারি সাহায্য নেই। নিজেদের পরিবারের ৪ জনের উদ্যোগেই চারা কেনা, মাটি তৈরি, গর্ত খোঁড়া, জল দেওয়া সবই করেন তাঁরা। স্থানীয় মানুষকেও সচেতন করেন এই দম্পতি—কেন বনভূমি রক্ষা করা প্রয়োজন, কেন প্রয়োজন দেশীয় গাছ। বছরের পর বছর ধরে এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় সাফল্যও মিলেছে। বহু এলাকায় এখন ছোট ছোট গাছ বড় হয়ে উঠেছে। বনাঞ্চলে ফিরেছে পাখির কলকাকলি।

স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের মতে, গোবিন্দ ও সঞ্চিতা মণ্ডলের মতো মানুষদের কাছ থেকেই অনুপ্রেরণা নিতে পারে আগামী প্রজন্ম। সবুজায়নের এমন নিঃস্বার্থ প্রয়াস আজকের দিনে এক নিঃশব্দ বিপ্লব। প্রত্যেক রবিবার বা ছুটির দিনে সিমলাপালের জঙ্গলে গেলে দেখা মিলবে এই শিক্ষক পরিবারের। কে জানে, একদিন আপনার সাথেও দেখা হতে পারে এদের।






