Explore

Search

July 9, 2026 8:31 pm

IAS Coaching

মাল নদীর চরে শহরের বহ্য আবর্জনা কেন? প্রশ্ন পরিবেশপ্রেমীদের

#মালবাজার: নদী আমাদের সভ্যতার বাহক, প্রবাহমান নদীকে স্বচ্ছ এবং গতিশীল রাখতে বহু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা কতখানি কার্যকর হয়েছে? তার নিদর্শন দেখা যায় ডুয়ার্সের মাল নদীর চর এবং তার আশপাশের এলাকায়। মালবাজার শহরের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে বয়ে গেছে পাহাড়ি মাল নদী। শহরের বাসিন্দাদের ছট পূজা, গঙ্গা পূজা থেকে প্রতিমা বিসর্জন এবং  অন্যান্য পারলৌকিক কাজকর্ম এই নদীর ঘাটেই করা হয়। প্রচন্ড গরম খানিক স্বস্তির ঠান্ডা বাতাস পেতে এই নদীর পারে মানুষ আসা যাওয়া করে।
মালবাজার শহর পেরিয়ে বেশিমলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নেওড়া নদীর সঙ্গে মিশে দক্ষিণের দিকে প্রবাহিত হয়েছে মাল
নদী। শহরের একমাত্র বৈদ্যাতিক চুল্লি এই নদীর ঘাটেই রয়েছে। বৈদ্যাতিক চুল্লি এলাকায় গেলেই নজরে পড়বে নদীর চরে জমে রয়েছে স্তুপাকৃত জঞ্জাল এবং নোংরা আবর্জনা। এই কারণে মৃতদেহ দাহ করার পর অস্থি বিসর্জনের সময় অনেকেই বিব্রত বোধ করে। শহরের নোংরা আবর্জনা এখানেই ফেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুধু শ্মশানঘাট এলাকাও নয়, মাল নদীর বিসর্জন ঘাট সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি শুরু হয়েছে জঞ্জাল খেলার কাজ। হয়ে উঠেছে ডাম্পিং গ্রাউন্ড। ২০২২ সালে দূর্গা পূজার বিসর্জনের সময় হড়পা বানে ৮ জনের মৃত্যু হয়। তারপর সেচ দপ্তর থেকে ৩৩ লক্ষ টাকা ব্যয় সুন্দর ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। এই ঘাটেই দুর্গাপূজা বিসর্জন হয় এবং আষাঢ় মাসে পুরোহিত কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে গঙ্গা পূজা করা হয়। এহেন  সাজানো বিসর্জন ঘাটের দক্ষিণ প্রান্তে জঞ্জাল ফেলা চলছে। শহরের আবর্জনা এ নয়, হাসপাতাল ও অন্যান্য এলাকার আবর্জনা এখানে ভালো হয় বলে অভিযোগ।
শহরের পরিবেশপ্রেমী স্বরূপ  মিত্র বলেন, বিসর্জন ঘাট সংলগ্ন এলাকায় কয়েক বছর ধরে চলছে জঞ্জাল ফেলার কাজ। শহরের আবর্জনা  হাসপাতালের আবর্জনা এখানে ফেলতে দেখেছি। ইতিপূর্বে আমরা প্রতিবাদও করেছি। বিভিন্ন মহলে জানিয়েছি। এভাবে নদীর বুকে জঞ্জাল ফেললে জল দূষিত হয়। সেই দূষিত জল পান করে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্যে এখানে আবর্জনা ফেলা উচিত নয়। এত সুন্দর পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আর এক পরিবেশ প্রেমী নফসর আলি জানান, নদীর বুকে আবর্জনা ফেলা একদম উচিত নয়। এর ফলে পরিবেশ যেমন দূষিত হয় তেমন জল দূষণ ঘটে। এই জল আবার পানীয় হিসেবেও ব্যবহার হয়। স্বাভাবিকভাবে এই প্রবণতা বন্ধ করা উচিত।
মালনদীর ঘাটে জঞ্জাল খেলা সাম্প্রতিক ঘটনা নয়। গত বেশ কয়েক বছর ধরে এই প্রবণতা চলছে। এ নিয়ে পরিবেশপ্রেমীরা প্রতিবাদ যেমন করেছেন তেমনি মামলাও হয়েছে। তবু বন্ধ হয়নি জঞ্জাল ফেলার  কাজ। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পৌরসভা সূত্র থেকে জানা গেছে, ডাম্পিং গ্রাউন্ড নির্মাণের কাজ চলছে। ডাম্পিং গ্রাউন্ড সম্পূর্ণ হলে এই সমস্যা থাকবে না।
Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja