
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ বাংলাদেশের নামহীন একটি বিল থেকে উৎপন্ন হয়ে হেমতাবাদ, কালিয়াগঞ্জ, রায়গঞ্জ ইটাহার ব্লকের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সুই নদীতে গিয়ে মিশেছে গামারী নদী। প্রায় ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীটি আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। একসময় জলস্রোতে ভরপুর গামারী নদী আজ জলহীন হয়ে প্রায় মরুপ্রায়।

গামারী নদীর বর্তমান অবস্থার জন্য একাধিক কারণকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাংলাদেশে নির্মিত একাধিক বাঁধের ফলে নদীতে স্বাভাবিক জলপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বছরের বেশিরভাগ সময় নদী শুকনো পড়ে থাকে।

তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, নদীর বুকের বড় অংশই আজ লিজ নিয়ে দখল করে নিয়েছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই লিজ থেকে পাওয়া অর্থ চলে যাচ্ছে স্থানীয় নেতাদের পকেটে। ফলে নদীর স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়েছে।

একসময় যে নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, আজ সেখানে মাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদীর তীরে একাধিক বিল ছিল, যেগুলো ছিল জলজ প্রাণীদের আশ্রয়স্থল। কিন্তু বর্তমানে সেই বিলগুলিকে কৃষি জমিতে পরিণত করা হয়েছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য আরও নষ্ট করেছে।

সমাধানের পথ কী, জানতে চাইলে ড. বৃন্দাবন ঘোষ বলেন, প্রথমেই বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক নদী বিষয়ক চুক্তি মেনে চলতে হবে, যাতে নদীতে আবারও স্বাভাবিক জলপ্রবাহ সম্ভব হয়।এছাড়াও, নদীর পাড়ে যেসব দখলদার বেআইনিভাবে জায়গা দখল করেছেন, তাদের অবিলম্বে উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও দাবি, নদীর পাড়ে থাকা শ্মশানঘাটগুলির চারপাশে বর্জ্য পদার্থের যথাযথ ব্যবস্থাপনা করতে হবে, যাতে নদীর জল দূষিত না হয়।অবিলম্বে রাসায়নিক সার ও অন্যান্য দূষণ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। একসময় জীবনের স্রোতে টইটম্বুর গামারী নদী আজ নিঃশেষ হওয়ার মুখে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই নদী হয়তো অদূর ভবিষ্যতে শুধুই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পাবে।

মোট দৈর্ঘ্য – ২৬ কিমি (আনুমানিক)
উৎপত্তিঃ বাংলাদেশের মরার বিল
মিশেছে – সুই নদীতে
নদী তীরের গ্রাম- বাঘন, নদনা, ভাটিনগ্রাম, দুর্লভপুর, বিধিবাড়ি, পাইকপাড়া ইত্যাদি।
প্রধান সমস্যা-
১. বাংলাদেশে একাধিক বাঁধ নির্মাণ
২. নদীটি সারাবছর প্রায় জলহীন
৩. নদীর বুকের বেশিরভাগ অংশ লিজ নিয়েছে।
৪. লিজের অর্থ পায় স্থানীয় নেতারা।
৫. নদীর বুকে আজকাল আর তেমন মাছ পাওয়া যায় না।
৬. নদীর তীরে থাকা বেশ কয়েকটি বিল আজ কৃষি জমিতে পরিণত হয়েছে।




