
#মালবাজার: গত কয়েকদিন ধরেই ডুয়ার্স জুড়ে চলছিল তীব্র দাবাদহ। তাপমাত্রার পারদ ছুয়েছিল প্রায় ৪১ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রাস্তা ঘাটে মানুষের সমাগম কমে আসছিল। সামান্য গাছের ছায়া এক অসামান্য হয়ে মনে লাগছিল। ঠান্ডা পানীয়, আইসক্রিমের চাহিদা বাড়ছিল। ডুয়ার্সের মানুষ এই উচ্চ তাপমাত্রায় অভ্যস্ত নয় তাই সবাই বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করছিল। সমস্যায় পড়েছিল চা বাগান গুলো।

উচ্চ তাপমাত্রার কারণে লুপার, রেড স্পাইডার সহ অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রব যেমন বেড়ে গিয়েছিল তেমনি উৎপাদনের ঘাটতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এইরকম পরিবেশে সবার মুখে একটাই কথা শোনা গিয়েছিল, কবে বৃষ্টি আসবে।
সবার কথা শুনে অবশেষে বরুণ দেব তুষ্ট হয়ে স্যার কৃপা বর্ষণ করলেন। শনিবার সকাল থেকেই আকাশ ছিল ঝকঝকে।

বেলা বাড়তেই তাপমাত্রার পার চরচড়িয়ে উপরের দিকে উঠতে থাকে। বেলা বারোটা নাগাদ তাপমাত্রা পৌঁছে যায় প্রায় একচল্লিশ ডিগ্রীতে। এরপরেই আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা যায়। দেড়টা নাগাদ বজ্র-বিদ্যুৎ সহ হাওয়া দিয়ে শুরু হয় বৃষ্টি। এক ধাক্কায় তাপমাত্রার পারদ নেমে যায় ২৮ডিগ্রি সেলসিয়াসে। মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফেরে। অনেকেই বৃষ্টিতেই গা ভিজিয়ে শরীর শীতল করে নেয়।

মালবাজার শহর সংলগ্ন সোনগাছি চাবাগানের ম্যানেজার রাধেশ্যাম খান্ডেলওয়াল জানান, চা গাছের জন্য প্রয়োজন হয় ২০ থেকে ৩২ ডিগ্রি তাপমাত্রা। এইরকম উচ্চ তাপমাত্রা একদিকে যেমন উৎপাদনে ঘাটতি হয় তেমনি পোকার উপদ্রব বাড়ে। তবে আরো বৃষ্টির দরকার আছে”।
মালবাজারের গৃহবধূ সাবিত্রী দাস বলেন, প্রচন্ড গরমে শারীরিক সমস্যা হচ্ছিল বৃষ্টিতে খানিকটা স্বস্তি পাওয়া গেছে। আধ ঘন্টার বৃষ্টিতে তাপমাত্রা নেমে অনেকটা। আকাশে মেঘের ঘনঘটা ও ঠান্ডা বাতাসে শনিবার দুফুরের পর থেকে সর্বত্র স্বস্তির বাতাবরণ দেখা যায়।






