#মালবাজার: মাল পৌরসভায় আবারো দেখা গেল দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব। বোর্ড মিটিংয়ে এলেন না ৯ কাউন্সিলর। যদিও পরবর্তীতে পাঁচজন কাউন্সিলর বোর্ড মিটিং সম্পন্ন করেন এবং বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেন। বর্ষার মরসুম চলছে, মশা মাছির উপদ্রব বাড়ছে, ডেঙ্গু সহ অন্যান্য রোগের পাদুর্ভাব ঘটতে পারে এমন সম্ভাবনা ও আছে। পাশাপাশি পানীয় জল সহ অন্যান্য সমস্যাও রয়েছে। এসব নিয়ে সোমবার মাল পৌরসভার বোর্ড মিটিং আহবান করেছিলেন চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ী।

নির্দিষ্ট সময় বোর্ড মিটিং শুরু হওয়ার পর সেখানে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান সহ ৫ কাউন্সিলর ও পৌর আধিকারিকরা। কিন্তু, প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন সাহার অনুগামী ৯ কাউন্সিলর বোর্ড মিটিংয়ে এলেন না। এই ঘটনায় মাল পৌরসভায় আবারো দেখা গেল দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব। পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুরজিৎ দেবনাথ বলেন, আমাদের প্রতিটি কাউন্সিলারকে বিভিন্ন দপ্তরের আহ্বায়ক করা হয়েছে। কিন্তু, না জানিয়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। আমি সেনেটারী দপ্তরের আহবাহক। আমার কাছে জানতে না চেয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এজন্যই আমি বোর্ড মিটিংয়ে যায়নি।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুমা দে দাস বলেন, আমি স্বাস্থ্য বিভাগের আহ্বায়ক অথচ স্বাস্থ্য দপ্তরের কাজকর্ম সম্পর্কে আমাকে অবহিত করা হচ্ছে না। পাঁচ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এজন্যে বোর্ড মিটিংয়ে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অমিতাভ ঘোষ জানান, প্রতিটি কাউন্সিলরকে বিভিন্ন বিভাগের আহ্বায়ক করা হয়েছে। তাদের পরামর্শ না নিয়েই কাজকর্ম হচ্ছে। একজনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। এজন্যে আমি বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত থাকিনি। এভাবেই অনুপস্থিত কাউন্সিলররা তাদের মতামত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ী বলেন, বোর্ড মিটিং হয়েছে কোরাম হয়েছে। যারা আসেন নি সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। এদিন বোর্ড মিটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পানীয় জলের পরিসেবা স্বাভাবিক রাখা, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে হেলথ সেন্টার স্থাপন, ই- রিস্কার খাজনা সংগ্রহ সহ অন্যান্য বিষয় ছিল। ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পুলিন গোলদার জানান, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে বোর্ড মিটিংয়ে এসেই বলা যেত। এভাবে বোর্ড মিটিং বয়কট করা ঠিক হয়নি। এতে মানুষের উন্নয়নে ব্যাঘাত তৈরি হয়।

শাসকদলের এই গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে কথা বলতে ছাড়েননি বিরোধীরা। বিজেপি মাল টাউন মন্ডল এর সভাপতি নবীন সাহা বলেন, কোরামের দোহাই দিয়ে এভাবে বোর্ড মিটিং করা ঠিক নয়। চেয়ারম্যানের উচিত ছিল পদত্যাগ করা।
উল্লেখ্য পৌর আইন অনুযায়ী এক তৃতীয়াংশ উপস্থিত থাকলেই কোরাম হয় এবং মিটিং চলতে পারে।






