
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে রায়গঞ্জের সুভাষগঞ্জ এলাকার নিজ বাড়িতে একটি লোকসংস্কৃতি সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছিলেন বাউল শিল্পী তরণী সেন মহন্ত। তিনি এর নাম রেখেছিলেন কুসুম কিশোরী পল্লী পাঠাগার ও লোকশিল্প সংগ্রহশালা। বাউল গানের বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র, প্রাচীন বই, ও বাউল শিল্পীদের পোশাকে সমৃদ্ধ এই সংগ্রহশালাটি বর্তমানে পরিকাঠামোর অভাবে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে।

১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগ্রহশালায় রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র যেমন—একতারা, দোতারা, সারেঙ্গা, স্বরাজ, ডাবডুবি, ডুগডুগি, মুকুল, চামর প্রভৃতি। তরণী সেন মহন্ত জানিয়েছেন, এখানে সংরক্ষিত আছে প্রায় তিন হাজার বাউল গান এবং বহু বাউল শিল্পীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক। রাজ্য ও জেলার বিভিন্ন লোকশিল্পীরা তাঁদের বাদ্যযন্ত্র এই সংগ্রহশালায় সংরক্ষণের জন্য রেখে গেছেন।

দেশ-বিদেশ থেকে গবেষক ও পড়ুয়ারা এই সংগ্রহশালায় আসছেন বলে জানান তরণী বাবু। সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের কিছু পড়ুয়া গবেষণার জন্য এখানে এসেছিলেন। এমনকি কলকাতা থেকেও পরিচালক হিমানীশ দাশগুপ্ত একটি ডকুমেন্টরি শর্ট ফিল্ম তৈরির জন্য রায়গঞ্জে এসেছেন। সকলেরই বক্তব্য, তরণী সেন মহন্ত বাংলার লোকসংস্কৃতির অন্যতম ধারক। তাঁর সংগ্রহশালা না দেখলে এই কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যেত।

রায়গঞ্জের মহকুমা শাসক কিংশুক মাইতি জানান, তরণী সেন মহন্তের সংগ্রহশালাটি যাতে আরও সুপরিকাঠামোয় গড়ে ওঠে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত থাকে, সে বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। প্রয়োজনে জেলা মিউজিয়াম কিংবা জেলা গ্রন্থাগারে এই ঐতিহ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে। সংস্কারের দাবি করেছে, হিষ্টোরিকাল সোসাইটিও।

তরণী সেন মহন্তের একান্ত আকুতি, সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমার আবেদন, এই সংগ্রহশালার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নে সাহায্য করুন, নইলে আগামী প্রজন্ম এক ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সাক্ষাৎ থেকে বঞ্চিত হবে।






