
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ দেহদান করে সমাজের সামনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রায়গঞ্জের প্রবীণ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক সুধাংশু কুমার দাস (৭৬) এবং তাঁর সহধর্মিণী রত্না দাস (৬৯)। রবিবার জামাইষষ্ঠীর বিকেলে রায়গঞ্জের তুলসীতলায় অবস্থিত নিজের বাসভবনে বসে মৃত্যু পরবর্তী দেহদানের অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন এই দম্পতি।

দেহদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুধাংশুবাবু বলেন, “জীবন থাকতে সমাজ অনেক কিছু দিয়েছে, এবার মৃত্যুর পরও সমাজের কাজে লাগার চেষ্টা করছি। যাতে কারোর উপকারে আসতে পারি, সেটাই আমাদের প্রার্থনা।” পাশে বসে রত্নাদেবী বলেন, “আমাদের এই সিদ্ধান্তে যদি পরবর্তী প্রজন্ম একটু অনুপ্রাণিত হয়, তাহলেই শান্তি পাবো।”

এই মহতী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সুব্রত সরকার এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী প্রবীর মন্ডল। সুব্রত বাবু বলেন, “এটা শুধুই দেহদান নয়, সমাজের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতার পরিচয়। দাস দম্পতির এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে।”

এই দম্পতির এমন মানবিক সিদ্ধান্তে স্থানীয় মানুষজনও প্রসংশায় পঞ্চমুখ। দেহদানের মতো সামাজিক দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রায়গঞ্জে তৈরি হয়েছে এক ইতিবাচক বার্তা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় এবং চিকিৎসা ও গবেষণার জগতে মূল্যবান অবদান রাখে।






