
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ বাঙালিদের ঐতিহ্য অনুযায়ী, জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে পালিত হয় জামাই ষষ্ঠী। এই দিনে মেয়ের বাড়িতে জামাইকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো-দাওয়ানো, উপহার দেওয়া এবং পারিবারিকভাবে আনন্দ করার রীতি রয়েছে। তবে জানলে আশ্চর্য হবেন, এই দিনের প্রকৃত নাম অরণ্য ষষ্ঠী।

আগে এই উৎসবটি শুধু মায়েরা পালন করতেন সন্তান-সন্ততির মঙ্গল কামনায়। তারা বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান করে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতেন। আজ সেই উৎসবই এক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে “জামাই ষষ্ঠী”-তে রূপ নিয়েছে।

জামাই ষষ্ঠী আসলে শাশুড়ি ও জামাইয়ের সম্পর্ক উদযাপনের দিন। এই দিনে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ও নিজের বাড়ির মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় হয়। জামাইকে ভালো খাবার খাওয়ানো, নতুন জামাকাপড় বা উপহার দেওয়া এবং পারিবারিকভাবে দিনটি উদযাপন করা হয়।

শাস্ত্রকার বিষ্ণুদেব ভট্টাচার্যের মতে, এক সময়ে মেয়ের গর্ভে সন্তান আসার আগে তার বাবা-মা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যেতেন না। অনেক সময় কম বয়সে বিয়ে হওয়ার ফলে সন্তানধারণে সমস্যা দেখা দিত। মেয়েকে বাড়িতে আনতে ও কাছে পেতে জামাইকে দাওয়াত দিয়ে এই জামাই ষষ্ঠীর রীতির শুরু হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। সুতরাং, জামাই ষষ্ঠী কেবল একটি উৎসব নয়, এটি একান্ত পারিবারিক সম্পর্কের উষ্ণতা এবং পুরোনো প্রথার এক আধুনিক রূপ।






