
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ সাধারণ মানুষের মধ্যে সামাজিক গবেষণায় এক নতুন দিশা প্রকাশ্যে আনলেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক তমাল বসু রায় সহ সহযোগী ৪ গবেষক। বয়স বাড়লে কি সাধারন মানুষের সেবা প্রদান করা বা কাজ করার ইচ্ছে কমে যায়, সে-নিয়ে গবেষণা করেন তারা। কেন এমন হয়, এই বিষয়ে ৫৫ হাজার মানুষের ওপর স্যাম্পল স্টাডি সহ এক তথ্য গত প্রমান তুলে আনলেন অধ্যাপক বসু রায় নেতৃত্বে ওই গবেষকেরা। এদিন অধ্যাপক বসু রায় বলেন, আমাদের দেশের ৪৫ বছরের বেশি বয়সীরা, ইউরোপীয় দেশগুলোর ওই ৪৫ বছরের বেশীদের তুলনায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে যোগদানের বিষয়ে অনেক পিছিয়ে পড়ছে। মুলত সামাজিক ও পরিকাঠামোগত সুযোগ সুবিধার অভাবে প্রবীণদের এই সেবা দেওয়ার মানসিকতা কমছে বলেই উঠে এসেছে এই তথ্যের বিশ্লেষণে।

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তমাল বসু রায় বলেন, বয়স্ক মানুষের বিভিন্ন কার্যক্রমে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, তাদের জীবনমান বাড়িয়ে তোলে। তবে, অনেক সময় তাদের বয়সজনিত শারীরিক অসুস্থতা এবং তাদের সামাজিক-গণতান্ত্রিক পটভূমি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। ভারতে কী ধরণের স্বাস্থ্য এবং পটভূমিগত পরিস্থিতি সামাজিক অংশগ্রহণকে প্রভাবিত করে, সে সম্পর্কে খুব কম তথ্য পাওয়া যায়। তাই, এই গবেষণাটি ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সের ভারতীয় জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য এবং পটভূমিগত বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে কম সামাজিক অংশগ্রহণের সম্ভাব্য সংযোগ পরীক্ষা করে।

অধ্যাপক বসু রায় বলেন, এই গবেষণায় ২০১৭-১৮ সালের প্রথম ধাপে প্রাথমিক সার্ভেতে ক্রস-সেকশনাল ডেটা ব্যবহার করা হয়েছে। এই সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় মধ্যবয়স্ক এবং প্রবীণ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য, কল্যাণ এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার বিষয়ে জ্ঞান সংগ্রহ করা। এক্ষেত্রে, ৫৫,৪৪৯ জন মধ্যবয়স্ক এবং প্রবীণ ব্যক্তির তথ্য বিশ্লেষণের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাখ্যামূলক সূচকের উপর কম সামাজিক অংশগ্রহণের মাত্রা নির্ধারণ করতে মাল্টিভেরিয়েবল লজিস্টিক রিগ্রেশন মডেল প্রয়োগ করা হয়েছে।

কেন আমাদের দেশের প্রবীনেরা এমনভাবে সেবার মানসিকতা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, জানতে চাইলে অধ্যাপক বসু রায় বলেন, এই গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন জীবনের কার্যক্রমে নিম্ন কর্মক্ষমতা এবং কগনিটিভ দুর্বলতা থাকার কারণে কম সামাজিক অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, যেসব ব্যক্তিরা হাড়/জয়েন্ট সার্জারি করিয়েছেন, বিষণ্ণতা অনুভব করেছেন এবং দূরে দেখার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল ছিল, তাদের মধ্যে কম সামাজিক অংশগ্রহণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।

প্রবীণদেরকে কি করতে হবে, জানতে চাইলে জার্নাল অফ মেডিসিন সার্জারী ও পাবলিক হেল্থে গবেষকেরা বলেন, এটি সামান্য একটা প্রক্রিয়া। বিভিন্ন রোগ মোকাবিলা করার জন্য মানসম্মত চিকিৎসা এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করার প্রচেষ্টা কম সামাজিক অংশগ্রহণের ঘটনা হ্রাস করবে। স্থানীয় সমাজের সুযোগ-সুবিধাগুলি মানুষের সামাজিক জীবনে বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে। পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে এবং শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে বন্ধুত্ব, খেলা, সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকতে পারলে, এতে প্রবীণেরা ভারতের নানান সমাজকল্যাণ মূলক কর্মসূচিতে একা একাই এগিয়ে আসবে।






