#মালবাজার: গতকাল তৃণমূল কংগ্রেস জেলা সম্পাদক মন্ডলির সদস্য তমাল ঘোষ এবং ওদলাবাড়ি অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সুকান্ত চৌধুরীর উপস্থিতিতে মানাবাড়ি চাবাগানের শ্রমিকরা শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন যে নেতারা কেউ শ্রমিকদের খোজখবর করেন না। বিশেষ করে তাদের অভিযোগ ছিল তৃণমূল কংগ্রেস প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠনের নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী বুলু চিকবরাইকের পুত্র অশোক চিকবরাইকের বিরুদ্ধে। তারা নেতৃত্বের বদলের দাবি তুলেছিলেন।

২৪ ঘন্টা পার হতে না হতেই ওই চা বাগানের কাঁটাঘর কমিউনিটি সেন্টারে শ্রমিকদের নিয়ে পাল্টা সভা করলেন মন্ত্রী পুত্র তথা শ্রমিক নেতা
অশোক চিকবরাইক। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস চা শ্রমিক সংগঠনের মাল ব্লক কমিটির সভাপতি অর্জুন ছেত্রী, কাঞ্চা রানা সহ প্রমুখ। সভায় শ্রমিকদের নানা সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা হয় এবং মজুরি প্রদান নিয়েও কথাবার্তা হয়।

পরে অশোক বাবু বলেন, বাস্তবে ওই চা বাগানের সমস্যা নিয়ে স্থানীয় নেতৃত্ব আমাকে কিছু জানায়নি। তবু আজ আমরা ওই চা বাগানে সভা করেছি। শ্রমিকদের জমায়েত ভালোই ছিল। মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি তারা দ্রুত বকেয়া মেটানোর আচ্ছা দিয়েছে। গতকাল যারা সভা করেছিল তারা বিভ্রান্তি ছড়াতে সভা করেছে। ৩১ শে জানুয়ারি এই চা বাগানের মালিকপক্ষের যে কয়টি চা বাগান রয়েছে তার সমস্যা নিয়ে শিলিগুড়ি দাগাপুর শ্রমিক ভবনে আলোচনা হয়। সেই আলোচনায় এই চা বাগানের ইউনিট নেতা আশিক প্রজা ছিলেন।

কিন্তু, আলোচনার নির্যাস তিনি চা বাগানের শ্রমিকদের জানাননি। এতেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অর্জুন ছেত্রী বলেন, গতকাল যারা সভা করেছিল তারা কেউ শ্রমিক নেতা নয়। তারা স্থানীয় ব্যবসায়ী। আজ আমরা সভার পর চা বাগান কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছি যে শুধুমাত্র শ্রমিক নেতারাই চা বাগানের সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন।

পরপর দুদিনের সবার পর তৃণমূল কংগ্রেস শ্রমিক সংগঠনের মধ্যেও গোষ্ঠী কোন্দল দেখা গেছে। এভাবে গোষ্ঠী কোন্দল বাড়তে থাকলে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে তার প্রভাব পড়বে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
অন্যদিকে বকেয়া চারটি পাক্ষিক বেতনের মধ্যে একটি মঙ্গলবার বিকেলেই শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছে। বাকি বকেয়া মজুরি দ্রুত মিটিয়ে চা বাগানের পরিবেশ স্বাভাবিক করা হবে বলে চা বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।






