#মালবাজার: ওদের কারো নাম সঞ্জয় রায়, কারো নাম কার্তিক দাস আবার কারো নাম সবিতা ওরাও। ওদের কারো বাড়ি বোলাকোপা, কারো বাড়ি নকশালবাড়ি, আবার কারো বাড়ি নাগরাকাটায়। ওদের একটা মিল রয়েছে পৃথিবীর আলো ওদের কাছে অন্ধকার। প্রকৃতির রুপ রং ওরা দেখতে পায় না। সেই প্রকৃতিকে জানতেই ওরা রবিবার এসেছে মেটেলি ব্লকের মূর্তি নদীর ধারে দক্ষিণ ধুপঝোড়ার ভগৎপাড়া গ্রামে প্রকৃতি পাঠ শিবিরে।

এই ভগৎপাড়া গ্রামেই উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন পরিবেশ প্রেমী সংস্থা হিমালয়ান নেচার এন্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে দৃষ্টিহীন ছেলেমেয়েদের নিয়ে ৪দিনের প্রকৃতি পাঠ শিবির। রবিবার দুপুরে লাটাগুড়ি সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ও গয়েরকাটা আরন্যাক পরিবেশপ্রেমী সংস্থার সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই প্রকৃতি পাঠ শিবিরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পদ্মশ্রী করিমুল হক। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংস্থা কর্মীরা এবং বনবিভাগের কর্মীরা।

প্রত্যন্ত এই গ্রামে আয়োজক সংস্থার তরফ থেকে বিভিন্ন বর্ণের তাবু টাঙ্গানো হয়েছে। ফাল্গুন মাসের ঠান্ডায় এই রাত কাটিয়ে দিনের আলোয় দর্শনে অক্ষম চিনবে প্রকৃতির রূপ। গাছের পাতায় হাত দিয়ে চিনবে গাছ, জানবে তার নাম। পিলখানার হাতি ছুঁয়ে জানতে পারবে হাতি কত বড় প্রাণী।

আয়োজক সংস্থা ন্যাফের কো-অর্ডিনেটর অনিমেষ বসু বলেন, এটা আমাদের ২৩ তম প্রকৃতিপাঠ শিবির। এখানে ৫৭ জন ছেলে মেয়ে এসেছে। দেখার অসুবিধা জন্য ওরা বাড়ির বাইরে খুব বেশি যেতে পারে না। বিভিন্ন জায়গা থেকে ওরা এসেছে। এখানে ওরা বাইরের পৃথিবীকে চিনবে। একসাথে থাকবে গাছ লতাপাতার নাম জানবে। এই শিবির ওদের কাছে শিক্ষনীয় হবে। এজন্যেই এই শিবির করা। শিবিরে আসা বোলাকোপার কিশোর সঞ্জয় রায় জানায়, শিবিরে এসে খুব ভালো লাগছে।







