
#মালবাজার: জখম এক দাঁতালকে তাড়াতে ব্যবহার করা হয়েছিল এক উন্মত্ত জেসিবি মেশিন। হাতিকে এলাকা ছাড়া করতে গিয়ে সেই জেসিবি হাতির সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় হাতির সঙ্গে। এতেই জখম হয় হাতিটি। এই ঘটনা ভাইরাল হয়ে পড়ে। প্রতিবাদে সোচ্চার হয় ডুয়ার্সের একাধিক পরিবেশ প্রেমী সংগঠন। এরপরেই রবিবার রাতে সেই জেসিপিকে আটক করে মাল থানার পুলিশ। গ্রেপ্তার হয় জেসিবি চালক এমন এক্কা। তার বাড়ি ওদলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তারঘেরা এলাকায়। 

জানা গেছে, শনিবার ভোরে আপালচান্দ বনভূমি এলাকার দলছুট হয়ে একটি দাঁতাল হাতি প্রথমে বেতগুড়ি চা বাগান এলাকায় চলে আসে।সেখান থেকে তাড়া খেয়ে কুমলাইগ্রাম পঞ্চায়েতের সেনপাড়া এলাকায় চলে আসে। সেখান থেকে চলে আসে পশ্চিম ডামডিম এলাকার চা বাগানে। হাতির দেখা পেতে মানুষের ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে আসে বনকর্মীরা এবং মাল থানার পুলিশ। বলকর্মীরা শনিবার হাতিটিকে বনে ফেরত পাঠাতে পারেন। কারণ হাতিটির পিছনের পা ও চোখ যখন ছিল। রবিবারও হাতিটি ওই এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সেখানেই খোলা মাঠে জমি সমতল করার কাজ পড়ছিল এক জেসিবি মেসিন। হঠাৎ দেখা যায় সেই জেসিপি মেশিন তার লোহার ব্র্যাকেট উঁচিয়ে হাতির দিকে তাড়া করে। বিরক্ত হয়ে হাতিটি দৌড়ে এসে জেসিবি মেশিনের উপর আক্রমণ করে। টালমাটাল হয়ে পড়ে জেসিবি মেশিন। তারপর প্রচন্ড শব্দে সেই জেসিবি মেশিন হাতির দিকে ধাওয়া করে এবং বেশ কিছু মানুষ হাতিটিকে লক্ষ্য করে পাথর ছুটতে থাকে। এই ঘটনা ভাইরাল হতেই সোচ্চার হয় একাধিক পরিবেশ প্রাণী।

ওদলাবাড়ি পরিবেশ প্রাণী নকসর আলি বলেন, ঝাড়খন্ড রাজ্যে এভাবেই উত্যক্ত করে একটি হাতিকে মারা হয়েছিল। এখানে যাতে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেটা দেখা দরকার। হাতিটি অসুস্থ তার চিকিৎসা প্রয়োজন। বনদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। চারিদিক থেকে প্রতিবাদ হতেই ওই জেসিবি চালকের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার হয় এবং পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত জানা গেছে, হাতিটি তার ঘেরা বনাঞ্চলে রয়েছে তবে তার চিকিৎসার সেরকম আয়োজন দেখা যায়নি।







