#মালবাজার: গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গোটা রাজ্য জুড়ে তৃনমুল কংগ্রেসের জয়জয়কার থাকলেও কিন্তু, উত্তরে চা বলয়ের সেরকম প্রভাব ফেলতে পারে নি। স্বাভাবিক ভাবে ক্ষমতায় পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বিশেষ নজর দেন। আগামী ২০২৬ সালে আবার বিধানসভা নির্বাচন আসছে। তার প্রস্তুতি নিতেই সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের চার আদিবাসী মন্ত্রীকে আদিবাসী সমৃদ্ধ এলাকায় জনসংযোগ বাড়াতে নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশের পরেই অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী বুলু চিকবরাইক, খাদ্য দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জোসনা মান্ডি, বন দপ্তরের মন্ত্রী বিরবাহা হাসদা ও পশ্চিম অঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী সন্ধ্যা রানী টুডু একযোগে হাজির হন ডুয়ার্সের চা বাগানে। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রী জোৎস্না মান্ডি ও সন্ধ্যা রানী টুড মালবাজার শহর এসে উপস্থিত হন। সেখানে তাকে তাদের স্বাগত জানান মাল বিধানসভার বিধায়ক মন্ত্রী বুলু চিক বাড়াইক। শুক্রবার মালে এসে পৌঁছান মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। এরপর চার মন্ত্রী রওনা দেন নাগরাকাটার পথে।

নাগরাকাটা ব্লকের ভগৎপুর চাবাগানে আগামী ১১ও ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে টি-ট্রাইবাল উৎসব। তার প্রস্তুতি পর্ব খতিয়ে দেখেন। এরপর চা শ্রমিকদের সমস্যা শোনেন। সেখানে তাদের সংবর্ধনা দেয় স্থানীয় লোকজন ও বন কর্মীরা।
এরপর বিকালে চার মন্ত্রী একযোগে আসেন মাল ব্লকের মিনগ্লাস চা বাগানে। মনগ্লাস চা বাগান বরাবর বিজেপির শক্তঘাঁটি। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল এখানে পর্যদস্ত হয়। কয়েকদিন আগে বিজেপির নেতা দিলীপ ঘোষ এই চা বাগানে এসেছিলেন দলের সদস্যতা অভিযানে। স্বাভাবিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেস এই চা বাগানে সংগঠন বাড়াতে তৎপরতা বাড়িয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় চার মন্ত্রী একযোগে কর্মী সভা করেন। সেখানে মন্ত্রী বীরবাহা হাসদা এবং মন্ত্রী বুলু চিক বাড়াইক কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তুলোধুলো করেন। মন্ত্রী হাঁসদা বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আবাস যোজনার টাকা আটকে রেখেছে কিন্তু, আমাদের সরকার ঘোষণা করেছে সবাইকে পাকা ঘর দেবে। এছাড়াও লক্ষীর ভান্ডার, রুপশ্রী, কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্প রয়েছে। যেটা অন্য রাজ্যে নাই। এই কর্মী সভায় নববিবাহিতা স্থানীয় গৃহবধূ স্নেহা মুন্ডা রুপশ্রী প্রকল্পের টাকা পেয়েছে। সেই খুশিতে চার মন্ত্রীকে মালা পরিয়ে পুস্প স্তবক দিয়ে সংবর্ধনা দেন।







