#মালবাজার: বাড়ির উঠানের পাশে কুয়োর পার থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে এক কিশোরীকে খুবলে খেল চিতাবাঘ। মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সন্ধ্যায় ডুয়ার্সের নাগরাকাটা ব্লকের আংরাভাসা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের খেরকাটা গ্রামে। মৃত ওই কিশোরীর নাম সুশীলা গোয়ালা (১০)।

স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, শনিবার সন্ধ্যায় গ্রামের এক বাড়ি থেকে শনিপুজার প্রসাদ খেয়ে বাড়ি এসে কুয়োর পাড়ে হাত মুখ ধুতে যায়। সেই সময় কুয়োর পাশেই ঘাপটি মেরে ছিল এক চিতাবাঘ। মুহুর্তে ঝাপিয়ে পড়ে গলায় কামড়ে টেনে নিয়ে যায় প্রায় ৭০০-৮০০ ফুট দূরে জঙ্গলের সেখানে খুবলে খায়। যখন ঘটনা ঘটে সেসময় সেরকম কেউ বাড়িতে কেউ ছিল না। মেয়ের চিৎকারে পাশের বাড়ির এক বৃদ্ধ বেরিয়ে দেখতে চিতাবাঘ মেয়েটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

তার ডাকাডাকিতে গ্রামের লোকজন আলো জ্বলে কুয়োর পাড়ে রক্তের দাগ দেখে। সেই দাগ অনুসরণ করে জঙ্গলের ধারে কিশোরীর খুবলানো দেহ উদ্ধার। এই ঘটনায় ওই এলাকায় আতংক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে নাগরাকাটা থানার পুলিশ ও বনকর্মীরা। স্থানীয় গ্রামবাসীরা বনকর্মীদের দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে। কিশোরীর বাবা রামসুরেশ গোয়ালা পেশায় দিনমজুর ও মা চাবাগানের অস্থায়ী শ্রমিক। মেয়ের এই মর্মান্তিক ঘটনায় হতবাক হয়ে গেছে।

এই ঘটনায় গরুমারা বন্যপ্রান বিভাগের এডিএফও রাজীব দে জানান, ঘটনাটি মর্মান্তিক ও দুখজনক। বনদপ্তর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। দ্রুত ওই এলাকায় খাঁচা পাতা হবে।
স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানায়, এই এলাকায় হাতি চিতাবাঘের উপদ্রব লেগেই আছে। আমরা প্রান হাতে করেই বেঁচে আছি। রবিবারই ওই এলাকায় খাঁচা পাতা হয়েছে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ডুয়ার্সে চিতাবাঘের আক্রমণের শিশুরা, এই ঘটনা প্রথম নয়, এর আগে তোতা পাড়া, ঢেকলাপাড়া সহ কয়েকটি চাবাগানে ঘটেছে।






