#মালবাজার: ১০% নয়, ১৬% হারে বোনাস দিতে হবে ‘ এই দাবী নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রায় ৮ ঘন্টা ধরে ১৭ নম্বর জাতীয় সরক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালো ডুয়ার্সের নাগরাকাটা ব্লকের গ্রাসমোরের শ্রমিকরা। পথ অবরোধের ফলে দুদিকে বহু যানবাহন আটকে পড়ে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ করা হলেও বিক্ষোভকারীরা অনমনীয় ছিল। অবশেষে বিকাল ৪.৩০ টা নাগাদ পুলিশ আন্তরিক চেষ্টা করে বুঝিয়ে অবরোধকারীদের প্রশমিত করে।

জানাগেছে, কলকাতার চেম্বার অফ কমার্স ভবনে গত ২২ সেপ্টেম্বর ডুয়ার্সের চাবাগান শ্রমিকদের বোনাস চুক্তি স্মাক্ষরিত হয়। সর্বোচ্চ ১৬% হারে বোনাস চুক্তি হলেও রুগ্নতা, অন্যান্য কারণে কয়েকটি চাবাগানের বোনাস অপেক্ষাকৃত কম হারে চুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী গ্রাসমোর চাবাগান কর্তৃপক্ষ ১০% হারে বোনাস ঘোষণা করে। কিন্তু, চাবাগানের শ্রমিকরা ১৬% হারে বোনাসের দাবী জানায়। তারা জানায় কলকাতায় কারা চুক্তি করেছে তা আমরা জানিনা। গতবছর ১৩% হারে বোনাস হয়েছিল। এবছর আরও কম।এটা আমরা মানছি না।

আমাদের ১৬% বোনাস দিতে হবে।গতকাল থেকে আমরা কাজে যাইনি। এই দাবী বুধবার শ্রমিকরা চাবাগানের ম্যানেজারকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। বৃহস্পতিবার সেই বিক্ষোভ রাস্তায় নেমে আসে। এদিন সকাল থেকে চাবাগানের কয়েকশ মহিলা ও পুরুষ শ্রমিক ১৭ নম্বর জাতীয় সরক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। এরফলে দু’দিকে বহু বাস, ট্রাক ও গাড়ি আটকে পড়ে। দীর্ঘক্ষন অবরোধ থাকায় যাত্রীরা হেটেই গন্তব্য অভিমুখে রওনা দেয়। বহু যাত্রী বিরক্ত প্রকাশ করে।

দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলায় ঘটনাস্থলে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সামীর আহমেদ, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেশমুখ প্রদীপ রোশন। সঙ্গে ছিলেন নাগরাকাটা, মেটেলি থানার আইসি সহ বিশাল পুলিশ। অবশেষে অনেক অনুরোধ ও চেষ্টার পর অবরোধ উঠে যায়। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামীম আহমেদ জানান, আমরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে বাড়িমুখো করতে পেরেছি। অবরোধ উঠে গেছে, এখন স্বাভাবিক।

এনিয়ে চাবাগানের ম্যানেজার ভাস্কর চক্রবর্তী জানান, ১০% হারে বোনাস দেওয়ার এগ্রিমেন্ট হয়েছে। বর্ধিত হারে বোনাস দেওয়ার কথা বলা যায় কি? তবু সমস্যা মেটাতে চেষ্টা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের শান্ত থাকতে বলেছি। উল্লেখ্য, চলতি বছর বোনাস নিয়ে ডুয়ার্সের বিভিন্ন চাবাগান ও পাহাড়ের চাবাগান শ্রমিকরা বিক্ষোভে সামিল হয়েছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও বিক্ষোভ হচ্ছে।






