
#মালবাজার: মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশিকার পর সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা বে-আইনি নির্মাণ ভাঙতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন শহর সহ গ্রামাঞ্চলে সরকারি জমির উপর বে-আইনি ভাবে নির্মিত হওয়া ভবন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মাল মহকুমা এলাকায় লাটাগুড়ি, গজালডোবা এলাকায় বিভিন্ন রিসোর্টে প্রশাসনের তরফে অভিযান চালানো হয়। ভেঙে দেওয়া হয় অবৈধ নির্মাণ। তবে ডুয়ার্সের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মেটেলি ব্লকের ধুপঝোড়া, বাতাবাড়ি ও মুর্তিতে বেশকিছু রিসোর্ট রয়েছে।

সেইসব রিসোর্ট গুলির মধ্যে বেশকিছু রিসোর্ট একেবারে নদীর গা ঘেসে বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় সরকারি জমির উপর গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। মুর্তি, ধুপঝোড়া ও বাতাবাড়ি এলাকায় এখনো পর্যন্ত সরকারি ভাবে সেভাবে অভিযান হয়নি। ভেঙে দেওয়া হয় নি অবৈধ নির্মাণ। এতেই প্রশ্ন তুলেছে পরিবেশ প্রেমীরা।
মূর্তি ডুয়ার্সের অন্যতম এক সুন্দর নদী। কালিম্পং জেলার পাহাড়ি এলাকা থেকে বেরিয়ে আঁকাবাঁকা পথে বনাঞ্চল পেরিয়ে চলে গেছে। নদীর এই অপরুপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বহু দিন থেকেই পিকনিক পার্টি ও পর্যটকরা এই এলাকায় আসা যাওয়া শুরু করে।

গত শতকের শেষ দিকে এই এলাকায় পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে গড়ে উঠতে শুরু করে একের পর এক রিসোর্ট। কেউ কেউ একেবারে মুর্তি নদীর পার ঘেসে সিমেন্টের পিলার পুতে গড়ে তুলেছে একের পর এক রিসোর্ট। অনেকের কাছেই বৈধ নথিপত্র নেই, অনেকে শুধুমাত্র পঞ্চায়েতের অনুমতি নিয়েই রিসোর্ট গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ।

বিশিষ্ট পরিবেশ প্রেমী অনির্বাণ মজুমদার বলেন, লাটাগুড়ি ও গজালডোবায় অভিযান চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হলো অবৈধভাবে নির্মাণ হওয়া রিসোর্ট। কিন্তু, মুর্তি নদীর পার বরাবর রয়েছে বেশকিছু রিসোর্ট। এদের কাছে জমির বৈধ কাগজপত্র আছে কি না? যেটা যাচাই হয়নি। লাটাগুড়ি ও গজালডোবার মতো অভিযান চালানো হয়নি। এই এলাকায় অভিযান করা উচিত। ভেঙে দেওয়া হোক বে -আইনি নির্মাণ। তাতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বজায় থাকবে।

এনিয়ে মেটেলি ব্লকের ভুমি ও ভুমিরাজস্ব আধিকারিকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি বিস্তারিত সব জানা হয়ে ওঠেনি। তবে আমাদের জরিপের কাজ চলছে। সেরকম নির্দেশ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনিয়ে মেটেলির বিডিও অভিনন্দন ঘোষ বলেন, আমাদের কাছে সেভাবে নির্দেশনা আসেনি। কেউ সেভাবে অভিযোগ করেনি।

তবু কয়েকজনকে তাদের নথিপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। সেরকম হলে ব্যবস্থা হবে। সরকারি আধিকারিকরা তাদের সাফাই গাইলেও মেটেলি ব্লকের মুর্তি নদীর পার ধরে, ইন্ডং চাবাগান এলাকায় হাতির কোরিডোরে এদিক ওদিক গড়ে উঠেছে ধাবা, রিসোর্ট সহ অবৈধ নির্মাণ। প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে দাবি পরিবেশ কর্মীদের।




