
#মালবাজার: তিস্তা নদীর আগ্রাসনের শিকার মাল ব্লকের টটগাও বস্তির জলের ট্যাংক, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও বাড়িঘর। নদীর জল হু হু করে ঢুকছে গ্রামের ভিতরে। কোথাও হাটু আবার কোথাও কোমর জল। ইতিমধ্যে কয়েকটি বাড়ি, পানীয়জলের ট্যাংক ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তিস্তার গর্ভে চলে গেছে। বিপর্যস্ত মানুষ জিনিসপত্র গুটিয়ে পরিবার সহ অন্যত্র চলে যাচ্ছে বাসস্থানের সন্ধানে। পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম ত্রানের ব্যবস্থা করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন টটগাও বাসী।

মাল ব্লকের তিস্তা পাড়ের প্রত্যন্ত গ্রাম টটগাও বস্তি। প্রায় ৩৫০ পরিবারের বাস। বেশিরভাগ মানুষের জীবিকা কৃষিকাজ ও পশুপালন। এই এলাকায় তিস্তার নদীর পার বরাবর কোন বাঁধ নেই। মাঝেমধ্যে তিস্তায় জল বাড়লে গ্রামের আবাদি জমিতে জল ঢুকে যায়।

গত ৪অক্টোবর সিকিমের মেঘভাঙা বৃষ্টি হ্রদের জল তিস্তায় এসে পড়ায় নদীর বুকে সৃষ্টি হয় প্রায় ২০ ফুট উচু জলচ্ছাস। সেই জলে জলমগ্ন হয় টটগাও বস্তি। বাসিন্দাদের সাময়িক ত্রান শিবিরে সরিয়ে আনা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাসিন্দারা গ্রামে ফেরে। সেই সময় থেকে তিস্তার গতিপথ ক্রমাগত পুর্ব দিকে সরে আসতে থাকে।
চলতি বছর বর্ষা শুরু হতেই তিস্তার জল গ্রামে ভিতরে প্রবেশ শুরু করে।

বর্ষা যতই প্রবল হয়েছে তিস্তার আগ্রাসন ততই বেড়েছে। গত ১৫ দিন ধরে গ্রামের বাড়িঘরের মধ্যে জল রয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত কয়েকদিনে বেশকিছু বাড়িঘর তিস্তার গর্ভে চলে গেছে। শুক্রবার দুফুরে দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে দেখা গেল আস্তে আস্ত জলের ট্যাংক, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র জলের তলায় তলিয়ে গেল।

সবে শ্রাবণ মাস বর্ষা আরও বেশ কিছুদিন রাজ করবে সেই ভয়েই অনেকেই ট্যাক্টারে জিনিসপত্র চাপিয়ে অন্যত্র পাড়ি দেওয়া শুরু করেছে।
গ্রামের বাসিন্দা ভীমবাহাদুর শর্মা জানান, গ্রামের মানুষ বহু কষ্টে বেঁচে আছে। তিস্তার যা রূপ তা দেখে মনে হয় গোটা গ্রামই নদীর গ্রাসে চলে যাবে।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য অনুপ শর্মা ও ভীমা উপাধ্যায় জানান, নদী ক্রমাগত ভয়ংকর আকার ধারণ করছে। গ্রামের অবস্থা খুবই খারাপ। অর্ধেক বাসিন্দাদের এলেনবাড়ি স্কুলে সরিয়ে আনা হয়েছে। পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রান-সাহায্য করা হচ্ছে। তবে গ্রাম রক্ষা করা না গেলে সমস্যা আরও বাড়বে।




