Explore

Search

November 8, 2026 9:50 pm

IAS Coaching

এএফসি মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল, ইতিহাস গড়ল মশাল গার্লস

#আনন্দ ব্যানার্জী, কলকাতা: হার দিয়েও ইতিহাস গড়ল ইস্টবেঙ্গল এফসি। এএফসি মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ২০২৬-২৭ মরশুমে প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল লাল-হলুদ শিবির। শনিবার, ৭ নভেম্বর কলকাতার কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে গ্রুপ বি-র শেষ ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার ৪.২৫ এসসি-র কাছে ০-২ গোলে হারলেও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার যোগ্যতা অর্জন করল ইস্টবেঙ্গল।

গ্রুপ বি-তে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে ৪.২৫ এসসি। ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার হোয়াচন কেএসপিও ডব্লিউএফসি। অন্যদিকে, গত মরশুমে গোলপার্থক্যে অল্পের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করা ইস্টবেঙ্গল এবার তিনটি গ্রুপের মধ্যে সেরা দুই তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের অন্যতম হিসেবে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। লক্ষ্মী ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ চ্যাম্পিয়নদের ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি ডব্লিউএফসি-র বিরুদ্ধে ২-১ গোলের জয়ই শেষ পর্যন্ত তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়েছে। আগামী ২৭ ও ২৮ মার্চ, ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনাল।

আগামী ৩ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এএফসি হাউসে অনুষ্ঠিত হবে নকআউট পর্বের ড্র। সেখানে আনসিডেড দল হিসেবেই থাকবে ইস্টবেঙ্গল। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে গ্রুপ এ-র শীর্ষে থাকা এবং গতবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার ন্যাগোহিয়াং উইমেন্স এফসি, গ্রুপ সি-র শীর্ষস্থানাধিকারী উজবেকিস্তানের পিএফসি নাসাফ অথবা সেরা দ্বিতীয় স্থানাধিকারী অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন সিটি এফসি।

শনিবারের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ৪.২৫ এসসি। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় উত্তর কোরিয়ার দলটি। ডান দিক থেকে পাক ওক-ই-র মাপা ক্রস থেকে হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন হান জিন-হং।

২২ মিনিটে ফের একইভাবে আক্রমণ তৈরি করেন পাক ওক-ই। তাঁর নিখুঁত ক্রস থেকে রি সু-ইয়াংয়ের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সে সময় ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক পান্থোই চানু এলাংবাম কার্যত নিজের জায়গায় দাঁড়িয়েই ছিলেন। ২৯ মিনিটেও পাক ওক-ই-র ক্রস থেকে জং পম-হুইয়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয় ৪.২৫ এসসি-র।

তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়াতে সক্ষম হয় উত্তর কোরিয়ার দলটি। নির্ধারিত সময়ের দু’মিনিট আগে পম-হুইয়ের ফ্রি-কিক থেকে ইস্টবেঙ্গলের বক্সে তৈরি হয় জটলা। সেই সুযোগে বলের দখল নিয়ে জং পক-ইয়ং সেটি বাড়িয়ে দেন ওহ সল-সংকে। নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ফের পরীক্ষার মুখে পড়েন ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক পান্থোই। জং রিয়ং-জংয়ের বাঁক খাওয়ানো ফ্রি-কিক দুরন্ত ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে কর্নারের দিকে ঠেলে দেন তিনি। ৬৮ মিনিটে মিয়ং ইউ-জংয়ের ক্রস থেকে ওহ-র হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়।

ম্যাচের শেষ দিকে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। গোলের ব্যবধান কমানোর মরিয়া চেষ্টা করলেও ৪.২৫ এসসি-র জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি মশাল গার্লস। শেষ পর্যন্ত ০-২ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। তবে এই পরাজয় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দে কোনও প্রভাব ফেলেনি। ইস্টবেঙ্গলের পাশাপাশি পরবর্তী পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ৪.২৫ এসসিও।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja