
#আনন্দ ব্যানার্জী, কলকাতা: দু’বার এগিয়ে গিয়েও জয় নিশ্চিত করতে পারছিল না মোহনবাগান। দু’বারই সমতা ফিরিয়ে ম্যাচে ফেরার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল ওড়িশা এফসি। শেষ পর্যন্ত ৮৭ মিনিটে লি আরউইনের গোলে স্বস্তির জয় ছিনিয়ে নিল সবুজ-মেরুন। বৃহস্পতিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পাঁচ গোলের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ওড়িশা এফসি-কে ৩-২ গোলে হারিয়ে আইএসএলের শীর্ষস্থান ফিরে পেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল মোহনবাগান। প্রথম মিনিটেই লি আরউইনের শট আটকে দেন ওড়িশার গোলরক্ষক হৃতিক তিওয়ারি। এরপর একের পর এক আক্রমণে ওড়িশার রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিংরা। তবে গোলের সামনে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দেন সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা। প্রথমার্ধে একাধিক সহজ সুযোগ নষ্টের পাশাপাশি গোলরক্ষক হৃতিকের দুরন্ত পারফরম্যান্সে গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দু’দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য গোলের মুখ খোলে মোহনবাগান। ৪৭ মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপার বাড়ানো বল ধরে ওড়িশার রক্ষণকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে জালে বল জড়িয়ে দেন দেজান দ্রাজিচ। কিন্তু সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৫১ মিনিটে নিহাল সুদেশের পাস থেকে গোল করে ওড়িশাকে সমতায় ফেরান মাহমুদ ইদ।

এরপর ফের আক্রমণের ঝড় তোলে মোহনবাগান। গোলের জন্য লিস্টনকে তুলে লালিয়ানজুয়ালা ছাংতেকে মাঠে নামান কোচ পানাজিওটিস দিমপেরিস। তাঁর পরিবর্তন কাজে দেয় ৭৪ মিনিটে। ছাংতের বাড়ানো পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে মোহনবাগানকে ফের এগিয়ে দেন দ্রাজিচ।

কিন্তু রক্ষণে ভুলের খেসারত আবারও দিতে হয় সবুজ-মেরুনকে। ৭৯ মিনিটে এভার্টনের গোলে ফের সমতা ফেরায় ওড়িশা। ২-২ ব্যবধানে ম্যাচ শেষ হওয়ার আশঙ্কা যখন বাড়ছে, ঠিক তখনই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন লি আরউইন। ৮৭ মিনিটে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে জালে বল জড়িয়ে দেন স্কটিশ ফরোয়ার্ড। তাঁর গোলেই শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে মোহনবাগান। ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন দেজান দ্রাজিচ।

এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে আইএসএলের শীর্ষস্থান ধরে রাখল মোহনবাগান। টানা চারটি জয় পেল সবুজ-মেরুন। অন্যদিকে, এখনও চলতি মরশুমে প্রথম জয়ের সন্ধানে ওড়িশা এফসি। তবে জয় এলেও মোহনবাগানের আক্রমণভাগের সুযোগ নষ্ট এবং রক্ষণে একাধিক ভুল কোচ দিমপেরিসের চিন্তা বাড়াবে।




