Explore

Search

November 2, 2026 7:32 pm

IAS Coaching

কুলিকের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়, ২০২৬-এ সফলভাবে প্রজনন ও ছানাদের বড় করল ওরিয়েন্টাল ডার্টার

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ কুলিকের আকাশে নতুন আশার ডানা। ২০২৬ সাল রায়গঞ্জের কুলিক বনাঞ্চলের পাখির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকতে চলেছে। কারণ, এই প্রথমবারের মতো কুলিক বনাঞ্চলে ওরিয়েন্টাল ডার্টার (Oriental Darter) পাখির সফল প্রজননের নজির সামনে এল। একটি পূর্ণবয়স্ক জোড়া পাখি বাসা তৈরি করে সেখানে দুটি ছানার জন্ম দেয়। শুধু তাই নয়, যত্ন নিয়ে তাদের বড় করে শেষ পর্যন্ত উড়তে শেখাতেও সক্ষম হয়েছে মা-বাবা পাখি।

বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী বাসুদেব চক্রবর্তী গত কয়েক মাস ধরে এই পাখির পরিবারটির গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন। তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে ডিম ফুটে ছানা বের হওয়া থেকে শুরু করে তাদের বেড়ে ওঠা এবং শেষ পর্যন্ত আকাশে ডানা মেলে উড়ে যাওয়ার এক অসাধারণ যাত্রা।

বাসুদেব চক্রবর্তী জানান, প্রায় এক মাস ধরে তিনি মা-বাবা পাখি এবং তাদের দুটি ছানার বেড়ে ওঠার দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রথমদিকে ছানাগুলি ছিল অত্যন্ত অসহায়। ধীরে ধীরে তারা বড় হয়েছে, শক্তি সঞ্চয় করেছে এবং একসময় উড়তে সক্ষম হয়েছে। অবশেষে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাসা ছেড়ে উড়ে যায় দুটি ছানাই। গত ২ অক্টোবর ২০২৬ কুলিক বনাঞ্চলে এই বিশেষ মুহূর্তের ছবি ক্যামেরাবন্দি করেন তিনি।

তাঁর কথায়, একজন বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রীর কাছে এমন মুহূর্ত শুধুমাত্র সুন্দর ছবি তোলার আনন্দ নয়। প্রকৃতির জীবনচক্র, পাখিদের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি এবং পরবর্তী প্রজন্মকে বড় করে তোলার যে সহজাত যত্ন, তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি মূল্যবান।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, কুলিক বনাঞ্চলে ওরিয়েন্টাল ডার্টারের সফল প্রজনন স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের পক্ষে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এটিই কুলিকে এই প্রজাতির প্রথম নথিভুক্ত বাসা বাঁধার ঘটনা কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও পর্যবেক্ষণ ও তথ্য যাচাই প্রয়োজন। তবে দুটি ছানার সফলভাবে বড় হয়ে উড়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে বনাঞ্চলের পাখিদের জন্য আশাব্যঞ্জক খবর।

বাসুদেববাবুর আশা, ২০২৭ সালেও এই পাখির পরিবার কুলিকে ফিরে আসবে। শুধু তাই নয়, আরও বেশি সংখ্যায় ওরিয়েন্টাল ডার্টার এখানে বাসা বাঁধবে এবং নতুন প্রজন্মের জন্ম দেবে।
উল্লেখ্য, রায়গঞ্জ বন আধিকারিক হিসেবে ভূপেন বিশ্বকর্মা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে, বন ও পরিবেশ রক্ষার জন্য তিনি একেরপর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। ভূপেন বাবু বলেন,গত ২বছর ধরে আমরা বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত টহল করে চোরাশিকারী ধরেছি। পাশাপাশি , নতুন ভাবে স্থানীয় প্রজাতির গাছ লাগানোর জন্য নীরবে কাজ করে চলেছি। এতে এখন কুলিকের ইকোসিস্টেম অনেক বেশি নিরাপদ এবং স্থিতিশীল।

পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কুলিকের পরিবেশ ও জলাভূমি সংরক্ষণের গুরুত্বও এই ঘটনা নতুন করে সামনে নিয়ে এল। প্রকৃতির এই আবাসস্থল অক্ষত থাকলে আগামী দিনে কুলিকের আকাশে আরও নতুন ডানার গল্প লেখা হবে, এমনটাই আশা পক্ষীপ্রেমীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja