
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। আগামী ৮ নভেম্বর কালীপুজো ও দীপাবলি। ইতিমধ্যেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে সর্বত্র। কোথাও মণ্ডপ তৈরির কাজ চলছে, কোথাও ব্যস্ততা প্রতিমা নির্মাণে। আলোকসজ্জার প্রস্তুতিও প্রায় তুঙ্গে। অথচ উৎসবের আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতির আঙিনায় সেই চেনা অতিথির দেখা নেই। উধাও শ্যামাপোকা! শ্যামাপুজো দোরগোড়ায় এসে দাঁড়ালেও নিরুদ্দেশ ছোট্ট কালো রঙের এই পতঙ্গ। আর তাতেই উদ্বিগ্ন পরিবেশকর্মীরা।

একসময় কালীপুজোর কয়েকদিন আগে থেকেই সন্ধ্যার আলোয়, বাড়ির উঠোনে, দেওয়ালে কিংবা গাছের পাতায় হামেশাই দেখা মিলত শ্যামাপোকার। বিশেষ করে শিশুদের কাছে এই পোকাটির উপস্থিতি ছিল কালীপুজো আসার অন্যতম আগাম সংকেত। শ্যামাপোকা দেখলেই মনে হতো, আর বুঝি দেরি নেই, এসে গেল শ্যামাপুজো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে সেই চেনা দৃশ্য। বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিশুর কাছেই শ্যামাপোকা কার্যত অপরিচিত।

পরিবেশকর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, পরিবেশের পরিবর্তন, গাছপালা ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমে যাওয়া, কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং কৃত্রিম আলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে বিভিন্ন পতঙ্গের স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে। শ্যামাপোকার দেখা কমে যাওয়ার পিছনেও এমন একাধিক কারণ থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশ সচেতন মানুষজন।

শুধু একটি পতঙ্গের অনুপস্থিতি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পরিবেশের ভারসাম্য এবং শৈশবের এক নস্টালজিক স্মৃতি। প্রকৃতির ছোট ছোট প্রাণীরাও যে পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তা ভুলে গেলে চলবে না। কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, গাছপালা ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন পরিবেশকর্মীরা।

একদিকে কালীপুজো ও দীপাবলিকে স্বাগত জানাতে আলোর রোশনাইয়ে সেজে উঠছে চারপাশ, অন্যদিকে প্রকৃতির আঙিনা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে একসময়ের চেনা আগমনী বার্তাবাহক। প্রশ্ন উঠছে, আগামী প্রজন্ম কি আর দেখতে পাবে শ্যামাপোকা? শ্যামাপুজোর আগে এই ছোট্ট পতঙ্গের অনুপস্থিতি তাই শুধু নস্টালজিয়া নয়, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নতুন করে ভাবাচ্ছে প্রকৃতিপ্রেমীদের।






