
#কোলকাতা: রেলে যাতায়াত করেন? তাহলে নতুন করে জেনে নিন ভারতীয় রেলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। যাত্রী নিরাপত্তা, টিকিট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং যাত্রী পরিষেবার উন্নতির লক্ষ্যে একাধিক নির্দেশিকা কার্যকর ও পুনরায় জোরদার করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে রাতের ট্রেনে মোবাইল ফোন চার্জ করা, অন্যের টিকিটে ভ্রমণ এবং নির্ধারিত শ্রেণির বাইরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে যাত্রীদের।

রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বন্ধ চার্জিং পয়েন্ট
ট্রেনে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রেল বোর্ড। উল্লেখ্য, এটি একেবারে নতুন নিয়ম নয়। ২০১৪ সালের নির্দেশিকাই ফের কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ২৬ অক্টোবর ২০২৬-এ। সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের একটি ট্রেনে চার্জ দেওয়ার সময় যাত্রীর পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরণের ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে এই নির্দেশে জোর দেওয়া হয়েছে।

অন্যের টিকিটে ভ্রমণ নয়
একজনের নামে সংরক্ষিত টিকিট নিয়ে অন্য কোনও ব্যক্তি ইচ্ছেমতো ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন না। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পরিবারের যোগ্য সদস্যের নামে টিকিট হস্তান্তরের সুযোগ থাকলেও তার জন্য রেলের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। নিয়ম না মেনে অন্যের টিকিট ব্যবহার করলে জরিমানা ও অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হতে পারে।

স্লিপার বা জেনারেল টিকিটে এসি কামরায় উঠলে বিপদ
জেনারেল কিংবা স্লিপার ক্লাসের টিকিট কেটে এসি কামরায় যাতায়াত করার চেষ্টা করলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। নির্ধারিত শ্রেণির টিকিট ছাড়া উচ্চতর শ্রেণির কামরায় ভ্রমণ করা রেলের নিয়মবিরুদ্ধ। এমন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া ও প্রযোজ্য জরিমানা আদায় করতে পারে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীকে উপযুক্ত কামরায় যেতে বলা হতে পারে।

যাত্রার ৩০ মিনিট আগেও পরিবর্তন করা যাবে বোর্ডিং স্টেশন
যাত্রীদের সুবিধার্থে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এখন ট্রেন ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগে পর্যন্ত বোর্ডিং স্টেশন পরিবর্তন করা যাবে। অনলাইনে IRCTC ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে এই পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে এই সুবিধা মূলত কনফার্মড ও RAC টিকিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ওয়েটিং লিস্টের টিকিটে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। একই টিকিটে একবারই বোর্ডিং স্টেশন পরিবর্তন করা যাবে।

টিকিটবিহীন যাত্রায় ন্যূনতম ৫০০ টাকা জরিমানা
এদিকে, ২০ জুন ২০২৬ থেকে টিকিটবিহীন বা বৈধ অনুমতিহীন যাত্রার ক্ষেত্রে ন্যূনতম জরিমানার পরিমাণ ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি যাত্রাপথের নির্ধারিত ভাড়াও দিতে হবে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে।

রেলের এই নিয়মগুলি সম্পর্কে যাত্রীদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ, সামান্য অসতর্কতা কিংবা নিয়ম না জানার কারণে যাত্রাপথে জরিমানা ও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।
তথ্যসূত্র: রেল বোর্ডের ২৬ অক্টোবরের নির্দেশিকা, PIB-এর ২৪ মার্চের ঘোষণা এবং ২০২৬ সালের সংশোধিত রেল আইন।



