
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ রায়গঞ্জে প্রস্তাবিত AIIMS হাসপাতালকে ঘিরে উত্তর দিনাজপুর তথা উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে। শুধু স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেই নয়, এই হাসপাতাল গড়ে উঠলে পর্যটন শিল্প, হোটেল ব্যবসা, পরিবহণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যেতে পারে বলে মনে করছেন জেলার বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্টজনেরা। তাঁদের মতে, চিকিৎসার প্রয়োজনে ভিন জেলা ও ভিন রাজ্য থেকে বহু মানুষ রায়গঞ্জে আসবেন। রোগীর পাশাপাশি তাঁদের পরিজনদেরও কয়েক দিন এখানে থাকতে হতে পারে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কুলিক পাখিরালয় থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্রকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

ইতিহাসবিদ বৃন্দাবন ঘোষের মতে, উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানার দ্বীপনগর এলাকায় AIIMS হাসপাতাল গড়ে উঠলে জেলার স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, “দূরদূরান্ত থেকে যাঁরা চিকিৎসা করাতে আসবেন, তাঁদের অনেককেই হয়তো কয়েক দিন এখানে থাকতে হবে। তাঁদের অবসর সময় কাটানোর জন্য আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। দক্ষিণ ভারতে আমরা যখন চিকিৎসার জন্য যাই, তখন চিকিৎসার পাশাপাশি সেখানকার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখি। রায়গঞ্জেও তেমন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।”

তাঁর মতে, রায়গঞ্জ তথা উত্তর দিনাজপুরে ছড়িয়ে রয়েছে বহু ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সম্পদ। ঐতিহাসিক সৌধ, প্রাচীন দীঘি, সাপনিকলা, কুলিক পাখিরালয়, বাহারাইল, ধামজা ফরেস্ট এবং দেবীঝোরা চা বাগানের মতো জায়গাগুলিকে হেরিটেজ স্বীকৃতি, সংস্কার ও পর্যটন উপযোগী করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে ইতিহাসপ্রেমী, সাধারণ পর্যটক এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে আসা মানুষজন সকলেই উপকৃত হবেন।

বৃন্দাবনবাবু আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এই জেলার চিকিৎসা পরিষেবা, রাস্তাঘাট ও পর্যটনের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই জেলার সাতটি সৌধ হেরিটেজের স্বীকৃতি পেয়েছে। বেশ কিছু প্রাচীন মন্দির সংস্কারের জন্যও আবেদন জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগগুলি বাস্তবায়িত হলে উত্তর দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব যেমন বাড়বে, তেমনই পর্যটনের নতুন দিগন্ত খুলবে।”

অন্যদিকে, বঙ্গরত্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অমিত সরকারও মনে করেন, AIIMS-কে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রায়গঞ্জকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান এবং কোচবিহারের রসিকবিলের মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে একটি বৃহত্তর পর্যটন সার্কিটের মধ্যে আনার সুযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, রায়গঞ্জে AIIMS গড়ে ওঠার সম্ভাবনাকে ঘিরে শুধু উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার স্বপ্ন নয়, উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের প্রসারের আশাও দেখছেন বিশিষ্টজনেরা। তাঁদের মতে, কুলিকের পরিযায়ী পাখি থেকে রসিকবিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপত্য থেকে চা বাগান—সবকিছুকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে AIIMS-কে কেন্দ্র করে তৈরি হতে পারে নতুন অর্থনৈতিক বলয়। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত পরিকাঠামো, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ।




