
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ রায়গঞ্জে AIIMS গড়ে ওঠার প্রস্তাব ঘিরে জমির বাজারে যখন জল্পনা ও তৎপরতা তুঙ্গে, ঠিক তখনই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল জমি কেনাবেচা বন্ধের একটি ভুয়ো সরকারি নোটিশ। নোটিশের নীচে উত্তর দিনাজপুর জেলাশাসকের স্বাক্ষর থাকায় প্রথমে অনেকেই সেটিকে সরকারি নির্দেশ বলে মনে করেন। পরে অবশ্য উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক শেভালে অভিজিৎ তুকারাম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নোটিশটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।

৮৭ নম্বর দ্বীপনগর মৌজায় AIIMS-এর জন্য জমি প্রস্তাবিত হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পরেই বিষয়টি ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে গ্রাউন্ড জিরোতে পৌঁছে নিউজ বৃত্তান্ত দেখতে পায়, এলাকায় জমি কেনাবেচার তৎপরতা শুরু হয়েছে। জমির দরও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

শুক্রবার রাতে হেমতাবাদ থানার বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক হরিপদ বর্মন বলেন, জমি কেনাবেচার খবর তাঁর কানে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, একটি চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসন ওই এলাকায় জমি কেনাবেচা বন্ধ করার জন্য নোটিশ জারি করছে।

এরপরই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি নোটিশ। তাতে উল্লেখ করা হয়, ৮৭ নম্বর দ্বীপনগর মৌজায় সমস্ত রকম জমি কেনাবেচা ও হস্তান্তর বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের নীচে রয়েছে জেলাশাসকের স্বাক্ষরও। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিভ্রান্তি ছড়ায় জমির মালিক থেকে শুরু করে সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শনিবার সকাল থেকেই হোয়াটসঅ্যাপে জমি কেনাবেচা বন্ধ সংক্রান্ত একটি নোটিফিকেশন ঘুরতে থাকে। সেই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জমি কিনতে আসা কয়েকজনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তাঁরা। উল্লেখ্য, বর্তমানে ওই এলাকায় এক শতক জমির দাম ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

কিন্তু শনিবার দুপুরে উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক শ্রী শেভালে অভিজিৎ তুকারাম, আইএএস, স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই নোটিশ সম্পূর্ণ ভুয়ো ও জালিয়াতিপূর্ণ (ফ্রড)। অর্থাৎ, জমি কেনাবেচা বন্ধের নামে যে নির্দেশের কথা প্রচার করা হচ্ছে, তার কোনও সরকারি সত্যতা নেই।

কেন এই ভুয়ো নোটিশ তৈরি করা হল? কারা এর নেপথ্যে রয়েছে? জমি কেনাবেচা ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনও স্বার্থান্বেষী মহল কি বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভুয়ো সরকারি নোটিশ ছড়ানোর ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন দ্বীপনগরবাসী।




