Explore

Search

July 30, 2026 3:10 am

IAS Coaching

কুলিকে রেকর্ড গড়তে চলেছে খয়রা কাস্তেরা, বিপুল সংখ্যায় Glossy Ibis-এর আগমনে ওয়াচ টাওয়ারের দাবি জোরালো

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ কুলিক পক্ষীনিবাসে এ বছর নজিরবিহীন সংখ্যায় দেখা মিলছে পরিযায়ী পাখি Glossy Ibis-এর (বাংলা নাম খয়রা কাস্তেরা)। একসময় Black Curlew নামে পরিচিত এই পাখির উপস্থিতি ঘিরে ইতিমধ্যেই উৎসাহের পাশাপাশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে পক্ষীপ্রেমী ও গবেষকদের মধ্যে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ বছরের সংখ্যা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।

ঊনবিংশ শতাব্দীর পরবর্তী সময়ে মূলত ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা এবং আমেরিকার আটলান্টিক ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এই পাখির বিস্তৃতি বেশি ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাদের বিচরণক্ষেত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো রায়গঞ্জ কুলিক পক্ষীনিবাসে Glossy Ibis-এর সফল বাসা বাঁধা এবং বাচ্চা ফোটানোর ঘটনা নজরে আসে। আর চলতি বছরে সেই সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় নতুন আশার আলো দেখছেন পক্ষীবিদরা।

প্রতিদিন খুব ভোরে দল বেঁধে খাবারের সন্ধানে কুলিক ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছে এই পাখিরা। জলজ পোকামাকড়ই এদের প্রধান খাদ্য। দিনের শেষে সূর্য ঢলতেই আবার ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরে আসছে কুলিকের বনাঞ্চলে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি Glossy Ibis বাসা তৈরি করেছে এবং সেখানে বাচ্চাও হয়েছে। তবে প্রতিদিন বিকেলে যে বিপুল সংখ্যক পাখিকে ফিরে আসতে দেখা যাচ্ছে, তারা যদি পরবর্তীতে বাসা বাঁধে, তাহলে বর্তমান বনাঞ্চলে পর্যাপ্ত জায়গা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

পক্ষীপ্রেমীদের একাংশের অনুমান, এ বছর Glossy Ibis-এর সংখ্যা কুলিকের অন্যতম প্রধান বাসিন্দা ওপেন বিল স্টর্ক (শামুকখোল)-এর মোট সংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। যদিও চূড়ান্ত সংখ্যা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

আরও একটি বিষয় গবেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে। অনেকের ধারণা, বর্তমানে যেসব Glossy Ibis প্রতিদিন ফিরে আসছে, তারা হয়তো এখনই বাসা বাঁধছে না। বরং যখন Egret (বক)-এর একটি বড় অংশ উড়ে যাবে, তখন সেই খালি হওয়া জায়গায় তারা বাসা বাঁধতে পারে। যদি এই অনুমান সত্যি হয়, তাহলে চলতি মরসুমে কুলিক পক্ষীনিবাসে এক ভিন্ন চিত্র দেখা যেতে পারে।

পাখি প্রেমী বাসুদেব চক্রবর্তী বলেন, এবার কুলিকে Glossy Ibis-এর পাশাপাশি আর এক প্রজাতির আইবিস, White Ibis-এরও উপস্থিতি নজরে এসেছে। বিষয়টি গবেষকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই প্রজাতির উপস্থিতি কুলিকের জীববৈচিত্র্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

তবে এত বিপুল সংখ্যায় Glossy Ibis-এর আগমনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন, উষ্ণায়নের প্রভাব, বাসস্থান পরিবর্তন কিংবা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থির পরিস্থিতি ও যুদ্ধের প্রভাবও পরিযায়ী পাখিদের স্বাভাবিক পরিযানপথে পরিবর্তন আনতে পারে। যদিও এই বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন।

বর্তমানে পাখিগুলিকে কুলিকের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম কোণের অত্যন্ত উঁচু গাছগুলিতে অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে মাটি থেকে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ বা আলোকচিত্র ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বন দফতরের পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে ওই এলাকায় একটি আধুনিক ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পর্যটকদের জন্যও সেটি খুলে দিলে কুলিকে প্রকৃতি পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

 

পক্ষীপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদন, কুলিকের এই বিরল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বার্থে বন দফতর যেন দ্রুত একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এতে যেমন গবেষণা সহজ হবে, তেমনি বিশ্বের কাছে কুলিকের নতুন পরিচয় আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

 

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja