
#রায়গঞ্জঃ সরকারি চাকুরি ও সরকার পোষিত স্কুলের চাকুরীরত শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বা গৃহশিক্ষকতা নিয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্টার, প্রচারপত্র ও আহ্বানপত্র ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টারগুলিতে দাবি করা হয়েছে, চাকুরীরত শিক্ষকেরা সম্প্রতি মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির সুবিধা পেয়েছেন। তাই তাঁদের গৃহশিক্ষকতা ছেড়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষাদানের উপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পোস্টারগুলিতে অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আবেদন জানানো হয়েছে, তাঁরা যেন প্রাইভেট টিউশনের পরিবর্তে বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেন।

অন্যদিকে, আরও একটি পোস্টারে রায়গঞ্জের কিছু স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে টিউশন পড়ানোর অভিযোগ তুলে তাঁদের একটি তালিকা তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টারটিতে দাবি করা হয়েছে, যেসব শিক্ষক স্কুলে কর্মরত থেকেও ব্যক্তিগত টিউশন পরিচালনা করছেন, তাঁদের বিষয়ে জনমত গড়ে তোলা হবে। যদিও এই তালিকা কারা তৈরি করছেন এবং তার সত্যতা কতটা, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ গৃহ শিক্ষক কল্যাণ সমিতির উত্তর দিনাজপুর জেলা কমিটির পক্ষ থেকেও ইতিমধ্যে একটি সভা হয়েছে। সেখানে ডিআই অফিসে ডেপুটেশন, স্কুল শিক্ষকদের টিউশন পড়ানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জেলায় শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের বক্তব্য, অধিকাংশ শিক্ষক নিষ্ঠার সঙ্গে বিদ্যালয়ে পাঠদান করেন এবং কয়েকটি বিচ্ছিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে গোটা শিক্ষক সমাজকে কাঠগড়ায় তোলা উচিত নয়। অন্যদিকে, গৃহশিক্ষকদের একাংশের দাবি, চাকুরীরত শিক্ষকদের টিউশন ব্যবসার কারণে স্বাধীন গৃহশিক্ষকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে একটি অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন বা শিক্ষা দফতর কোনও আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে জেলার শিক্ষা মহল ও অভিভাবকদের। সামাজিক মাধ্যমে শুরু হওয়া এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।




