Explore

Search

April 28, 2026 4:41 pm

IAS Coaching

রাজ্য রাজনীতিতে ‘উদীয়মান তারকা’—রায়গঞ্জের অধ্যাপক বাপি সরেন

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির আঙিনায় সময় সময় এমন কিছু নতুন মুখ উঠে আসে, যারা প্রচলিত ধ্যানধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৈরি করেন নতুন দিশা। উত্তর দিনাজপুরের দরিমানপুর গ্রামের মাটি থেকে উঠে আসা তেমনই এক নাম আজ আলোচনার কেন্দ্রে—অধ্যাপক বাপি সরেন। পেশায় শিক্ষক, কিন্তু মনেপ্রাণে এক নিবেদিত জনসেবক—এই দুই পরিচয়ের মেলবন্ধনেই তিনি হয়ে উঠেছেন রাজ্যের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর।

অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে জন্ম হলেও মেধা ও অদম্য পরিশ্রমের জোরে বাপি সরেন আজ পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড় কলেজের অধ্যাপক। তবে শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর পথচলা বহু দূর বিস্তৃত—রোদঝলমলে মাঠে, গ্রামবাংলার অলিগলিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর নিত্যদিনের কাজ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথমবার বড় মঞ্চে নজর কাড়েন তিনি। তাঁর স্পষ্টভাষিতা, বলিষ্ঠ বক্তব্য এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা দ্রুতই তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়।

এরপর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বোলপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে তাঁর প্রচারভঙ্গি কার্যত চমকে দেয় রাজনৈতিক মহলকে। যেখানে লড়াই দ্বিমুখী হওয়ার কথা ছিল, সেখানে বাপি সরেন নিজের ব্যক্তিত্ব, দায়বদ্ধতা এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে সেই সমীকরণকে ত্রিমুখী করে তোলেন। পাড়া থেকে পাড়ায় গিয়ে মানুষের সমস্যা শোনা এবং সহজ ভাষায় তা তুলে ধরাই হয়ে ওঠে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।

প্রথম দফার ভোট মিটতেই তাঁর ডাক পড়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে। আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকের সমর্থনে সেখানে তাঁর ঝোড়ো প্রচার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করে। জনসভা থেকে পথসভা—সব জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালিয়ে তিনি প্রমাণ করে দেন, রাজনীতি তাঁর কাছে কেবল মঞ্চের ভাষণ নয়, মানুষের দরজায় পৌঁছনোর দায়বদ্ধতা।

বর্তমানে আইএসএফ-এর উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি আরও নানা সংগঠনিক কাজে যুক্ত রয়েছেন তিনি। তবুও তাঁর জীবনযাপন একেবারেই সাদামাটা—চলনে-বলনে নেই কোনো আড়ম্বর, বরং রয়েছে মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা। বাপি বাবুর কথায়, মানুষের দুঃখ দুর্দশা নিজের চোখে দেখেছি। পাশে দাঁড়াতে চাই। তাই লড়াই চলছে। ভোটে হারি বা জিতি, সাধারণ মানুষের ভালো করতে আজীবন লড়ব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “বাপি সরেনের মতো শিক্ষিত, মার্জিত অথচ লড়াকু নেতৃত্ব বর্তমান সময়ের রাজনীতিতে একান্ত প্রয়োজন। তাঁর অসাধারণ বাগ্মিতা ও মানুষের সঙ্গে আত্মিক যোগাযোগ তাঁকে ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনাময় মুখ করে তুলছে।”

দরিমানপুরের ছোট্ট গ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা ছড়িয়ে পড়ছে গোটা বাংলায়। সময়ই বলবে, রাজ্যের রাজনীতিতে তিনি কতটা গভীর ছাপ ফেলতে পারবেন। তবে এটুকু নিশ্চিত—বাপি সরেন ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছেন মানুষের হৃদয়ে।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja