
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। RTI করে নিজের প্রাপ্য নম্বর ফিরে পেল রায়গঞ্জ করোনেশন হাই স্কুলের ছাত্র শ্রেয়াংশু ঘোষ। প্রায় দুই বছর পর রাজ্যের মাধ্যমিক মেধা তালিকায় উঠে এসে দশম স্থান অর্জনের স্বীকৃতি পেল সে। ২০২৫ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৭০০ নম্বরের মধ্যে ৬৮৩ পেয়ে প্রথম দশ জনের মধ্যে আসতে পারে নি শ্রেয়াংশু। তবে পদার্থবিদ্যায় মাত্র ৯৩ নম্বর পেয়ে সন্তুষ্ট ছিল না সে।

শ্রেয়াংশু জানায়, “ফল প্রকাশের পর থেকেই মনে হয়েছিল খাতা সঠিকভাবে দেখা হয়নি। এরপর স্ক্রুটিনি করলে ২ নম্বর বাড়ে, কিন্তু তাতেও সন্দেহ কাটেনি।” সে বলে, ‘এরপরই সে RTI আইনের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে খাতা দেখার আবেদন করি। শিলিগুড়ির অফিসে গিয়ে নিজের খাতা পর্যালোচনা করে নম্বর কাটা নিয়ে আপত্তি জানাই। অবশেষে সংশোধিত মার্কশিট হাতে পেয়ে জানা যায়, পদার্থবিদ্যায় আমার নম্বর বেড়ে হয়েছে ৯৬। ফলে মোট নম্বর বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৬৮৬।

শ্রেয়াংশু আরও বলে, মোট নম্বর বৃদ্ধি পাওয়ায় সে রাজ্যে দশম স্থান অধিকার করে। এর মধ্যে রায়গঞ্জ করোনেশন হাই স্কুলে বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছে সে। আগামী দিনে ডাক্তার হওয়ার বাসনা নিয়ে ‘NEET’ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত শ্রেয়াংশু।

শ্রেয়াংশুর মা পিউ ঘোষ, যিনি একজন গৃহবধূ, আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “নিজের প্রাপ্য নম্বর পেতে প্রায় দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এই সময়টা মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে কাটিয়েছি। ছেলে দশম হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য সেই আনন্দটা পুরোপুরি উপভোগ করতে পারছি না।” স্কুলের প্রধান শিক্ষক কালিচরণ সাহা বলেন, “শ্রেয়াংশুর এই সাফল্য আমাদের সকলের কাছে গর্বের। ওর জন্য রইল অনেক শুভকামনা।”

এদিকে জেলা মাধ্যমিক পরীক্ষার আহ্বায়ক বিকাশ দাসও খুশি প্রকাশ করে বলেন, “এই ঘটনা প্রমাণ করে, ছাত্রছাত্রীরা যদি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, তাহলে তারা ন্যায্য মূল্যায়ন আদায় করে নিতে পারে। শ্রেয়াংশুর এই সাফল্য অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।” শ্রেয়াংশুর এই লড়াই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং ন্যায্যতার দাবিতে এক অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে রইল।






